নর্থ মেসিডোনিয়ায় নাইটক্লাবে ভয়াবহ আগুন, নিহত ৫১
দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপের স্থলবেষ্টিত দেশ নর্থ মেসিডোনিয়ার কোচানি শহরের একটি নাইটক্লাবে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অন্তত ৫১ জন নিহত হয়েছেন আহত প্রায় ১০০। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পাঞ্চে তোশকোভস্কি এক সংবাদ সম্মেলনে এই মর্মান্তিক ঘটনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানান।
রবিবার (১৬ মার্চ) স্থানীয় সময় রাত ২:৩৫ মিনিটে কোচানির একটি জনপ্রিয় নাইটক্লাবে পপ কনসার্ট চলাকালে হঠাৎ করে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। বার্তাসংস্থা এপি-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে আতশবাজির কারণে আগুনের সূত্রপাত হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন কনসার্টে আসা তরুণরা আতশবাজি ব্যবহার করছিলেন যার ফলে নাইটক্লাবের ছাদে আগুন লেগে যায় এবং তা মুহূর্তের মধ্যে পুরো ক্লাবে ছড়িয়ে পড়ে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে আতঙ্কিত মানুষদের ছোটাছুটি করতে দেখা যায় এবং ক্লাবের ভেতর বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। অনেকেই ধোঁয়ায় শ্বাসরুদ্ধ হয়ে পড়েন এবং গুরুতর আহত হন। আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে চিকিৎসকরা আশঙ্কা করছেন।
ঘটনার পরপরই দমকল বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে পাঠায়। হাসপাতালের সামনে পরিবারের সদস্যরা ভিড় জমিয়ে নিখোঁজ স্বজনদের সন্ধান করছে অনেকেই তাঁদের প্রিয়জনদের খুঁজে পেতে চেষ্টা করছেন।
নর্থ মেসিডোনিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পাঞ্চে তোশকোভস্কি জানিয়েছেন, ঘটনাস্থলে তদন্ত চলছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে তাঁর সংশ্লিষ্টতা সম্পর্কে এখনও বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি। পুলিশ ও দমকল বাহিনী নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং ক্লাবের অনুমোদন সংক্রান্ত বিষয় খতিয়ে দেখছে।
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নর্থ মেসিডোনিয়া সরকার গভীর শোক প্রকাশ করেছে এবং নিহতদের পরিবারগুলোর প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
স্থানীয় জনগণ ও নিহতদের স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। অনেকেই প্রশাসনের অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং নাইটক্লাবের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। এই ঘটনার ফলে সেখানে নিরাপত্তা ব্যবস্থার যথাযথতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হচ্ছে।