নরসিংদীতে ট্রেনের নিচে চাপা পড়ে মা-মেয়ের মৃত্যু
নরসিংদীর পলাশের ঘোড়াশালে ট্রেনে কাটা পড়ে আকলিমা আক্তার পাখি (৩০) ও তার চার বছর বয়সী মেয়ে রাফা মনির মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ঘোড়াশাল বাইপাস সড়কের সামনে রেললাইনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত আকলিমা গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার তালুকবাজীর গ্রামের ইউনুস আলীর মেয়ে। তার স্বামী রাশেদুল ইসলাম সৌদি আরবে কর্মরত। তারা পলাশের ঘোড়াশালের ফুলদিরটেক গ্রামের ইছব আলীর ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। আকলিমা, তার মেয়ে রাফা মনি ও শাশুড়ি আরজুদা বেগম একই বাড়িতে থাকতেন।
শুক্রবার সকালে আরজুদা বেগমের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, তার ছেলের বউ প্রায়ই বিকেলে নাতনিকে নিয়ে ঘুরতে বের হতেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে সবাই একসঙ্গে খাওয়ার পর আকলিমা কাপড় বিক্রি করতে বের হন। কিছুক্ষণ পর আকলিমা মেয়েকে নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন।
সন্ধ্যার পর তারা বাড়িতে না ফেরায় আরজুদা বেগম খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। রাত ৮টার দিকে বড় ছেলে আশিকুর রহমান ফোন করে জানান, ছোট ছেলের স্ত্রী ও মেয়ে ট্রেনে কাটা পড়ে মারা গেছেন। বাড়িতে ফিরে রেললাইনে গেলেও তাদের মরদেহ দেখতে পাননি তিনি। ততক্ষণে রেলওয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে নিয়ে গেছে।
আরজুদা বেগম কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং বলেন, ‘আমার কলিজার টুকরা নাতিকে ছাড়া কীভাবে থাকব? ছেলেকে কী জবাব দেব?’ তিনি জানান, মাঝে মাঝে ছেলের সঙ্গে বউমার ঝগড়া হতে দেখেছেন, কিন্তু এমন ঘটনা ঘটবে, তা ভাবেননি।
নিহত আকলিমার ভাসুর আশিকুর রহমান জানান, তার ভাই বিদেশ থেকে ফোন করে স্ত্রী ও মেয়েকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনতে তাকে অনুরোধ করেছিলেন। পরে তিনি তাদের ট্রেনে কাটা পড়ে মৃত্যুর খবর পান। তবে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কোনো ঝগড়া হয়েছিল কি না, তা তিনি জানেন না।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আকলিমা মেয়েকে নিয়ে ঘোড়াশাল বাইপাস সড়কের কাছে যান। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে তারা রেললাইনে ওঠেন। এ সময় ঢাকাগামী কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনে কাটা পড়ে আকলিমার মৃত্যু ঘটে। গুরুতর আহত রাফা মনিকে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার পর রাত ৯টা ৪০ মিনিটে রেলওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আকলিমার মরদেহ উদ্ধার করে। শুক্রবার সকালে আকলিমার মা নাসিমা বেগম ও ভাসুর আশিকুর রহমান মরদেহ নিতে নরসিংদী রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়িতে আসেন। এ সময় মেয়ের ও নাতনির মৃত্যুর খবরে কান্নায় ভেঙে পড়েন নাসিমা বেগম। তিনি জানান, মরদেহ দুটি গাইবান্ধায় নিয়ে দাফন করা হবে।
নরসিংদী রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক দিলীপ চন্দ্র সরকার জানান, নিহতদের পরিবারের সদস্যরা এসেছেন। শুক্রবার বিকেলে ময়নাতদন্ত শেষে তাদের সম্মতিতে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।