নোবেলজয়ী সাহিত্যিক মারিও বার্গাস ইয়োসা আর নেই
নোবেলজয়ী পেরুভিয়ান সাহিত্যিক মারিও বার্গাস ইয়োসা আর নেই। রোববার পেরুর রাজধানী লিমায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন এই বিশ্বখ্যাত সাহিত্যিক। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৯ বছর। পরিবারের বরাত দিয়ে সোমবার এই তথ্য জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম সিএনএন।
মারিও বার্গাস ইয়োসা স্প্যানিশ ভাষার অন্যতম শক্তিশালী সাহিত্যিক ছিলেন। শুধু কথাসাহিত্য নয়, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষণধর্মী রচনার জন্যও তিনি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে খ্যাতি অর্জন করেন।
রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে বার্গাস ইয়োসার ছেলে আলভারো বার্গাস ইয়োসা একটি পারিবারিক বিবৃতি প্রকাশ করেন। সেখানে বলা হয়, ‘গভীর শোকের সঙ্গে জানাচ্ছি, আমার বাবা মারিও বার্গাস ইয়োসা আজ লিমায় আমাদের সান্নিধ্যে শান্তিপূর্ণভাবে মৃত্যুবরণ করেছেন।
১৯৬৩ সালে প্রকাশ পায় তার প্রথম উপন্যাস 'লা সিউদাদ ই লস পেররোস'। ইংরেজিতে এটি 'দ্য টাইম অব দ্য হিরো' নামে পরিচিত,পাঠকমহলে বিপুল জনপ্রিয়তা পায় এবং একাধিক ভাষায় অনূদিত হয়।
বার্গাস ইয়োসার স্মরণীয় উপন্যাসের মধ্যে আছে 'কনভারসেশন ইন দ্য ক্যাথেড্রাল (১৯৬৯)', 'দ্য ওয়ার অব দ্য এন্ড অব দ্য ওয়ার্ল্ড (১৯৮১)' এবং 'আন্ট জুলিয়া অ্যান্ড দ্য স্ক্রিপ্টরাইটার (১৯৭৭)'।তাঁকে এনে দেয় আন্তর্জাতিক সাহিত্যক্ষেত্রে অমর অবস্থান। ‘আন্ট জুলিয়া অ্যান্ড দ্য স্ক্রিপ্টরাইটার’ অবলম্বনে ১৯৯০ সালে তৈরি হয় ‘টিউন ইন টুমরো’ সিনেমা, যেখানে অভিনয় করেন কিয়ানু রিভস ও বারবারা হারশি।
২০১০ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন তিনি। সুইডিশ অ্যাকাডেমি তাঁর ‘ভাষার নিপুণতা এবং সমাজ বিশ্লেষণের গভীরতা’কে স্বীকৃতি দেয়।
পেরুর আরেকিপায় ১৯৩৬ সালে জন্ম নেওয়া বার্গাস ইয়োসার শৈশব কেটেছে বলিভিয়ার কোচাবাম্বায়। লেখালেখির পাশাপাশি তিনি সাংবাদিকতা, শিক্ষকতা ও ব্রডকাস্টিংয়ের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। প্যারিস, মাদ্রিদ, লন্ডন, ওয়াশিংটন, বার্সেলোনা—বহু শহরে থেকেছেন, কাজ করেছেন।
১৯৯০ সালে তিনি পেরুর প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন, তবে দ্বিতীয় দফার ভোটে আলবের্তো ফুজিমোরির কাছে পরাজিত হন। এরপর স্পেনে অভিবাসন নিয়ে ১৯৯৩ সালে স্পেনের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন। এক বছর পর তিনি লাভ করেন স্পেনের সর্বোচ্চ সাহিত্যিক সম্মাননা ‘সেরভান্তেস পুরস্কার’।
নোবেল জয়ের পর আয়োজকদের দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি ফরাসি লেখক গুস্তাভ ফ্লবার্তকে নিজের অন্যতম সাহিত্যিক অনুপ্রেরণা হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন।
মারিও বার্গাস ইয়োসার প্রয়াণে শোক প্রকাশ করেছে পেরুর প্রেসিডেন্টের কার্যালয়। রাষ্ট্রপতি নিজেও ব্যক্তিগতভাবে শোকবার্তা প্রকাশ করেছেন। তাঁর সন্তানদের ভাষায়, আমরা আশাবাদী, আমাদের মতো বিশ্বজুড়ে তাঁর পাঠকেরাও জেনে স্বস্তি পাবেন যে, তিনি এক দীর্ঘ, ঘটনাবহুল ও সৃজনশীল জীবন কাটিয়ে গেছেন যা তাঁকে অমর করে রাখবে।