নিয়ম-অনিয়মে আস্থা হারাচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা, পুঁজিবাজারে সূচকের ধারাবাহিক পতন
বিনিয়োগকারীদের আস্থার সংকটে ধারাবাহিক পতনের মধ্যে রয়েছে দেশের পুঁজিবাজার। আজ সোমবার (২৬ মে) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেন শেষে প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১৬ দশমিক ৯৫ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৭১৯ পয়েন্টে। এটি গত চার বছর নয় মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন অবস্থান।
লেনদেনেও দেখা গেছে নিম্নমুখী প্রবণতা। আজ ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ২৮২ কোটি ৬১ লাখ টাকার, যা আগের কার্যদিবসের তুলনায় কিছুটা বেশি হলেও বছরের তুলনায় অনেক কম। আগের দিন রোববার লেনদেন হয়েছিল ২৩৫ কোটি ৫১ লাখ টাকার।
বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৩ সালের ৮ আগস্ট ডিএসইতে লেনদেন হয়েছিল ১ হাজার ৬০৬ কোটি টাকা। চলতি মাসের ৪ আগস্ট লেনদেন নেমে এসেছিল ২০৭ কোটি টাকায়। পেছনে ফিরে দেখা যায়, ২০২০ সালের ১৩ আগস্ট ডিএসইএক্স সূচক ছিল ৪ হাজার ৭০৩ পয়েন্টে। চার বছর পর এসে সূচক এখন আবার সেই জায়গায় চলে এসেছে।
আজকের লেনদেন শেষে ডিএস৩০ সূচক ৪ দশমিক ৬১ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৭৪১ দশমিক ৯১ পয়েন্টে। তবে ডিএসইএস সূচক ০ দশমিক ৭৬ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩৩ দশমিক ৩২ পয়েন্টে।
ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, আজ বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৫০ হাজার ৬৭ কোটি ২৩ লাখ টাকা, যা আগের দিন ছিল ৬ লাখ ৫৯ হাজার ২ কোটি ২৬ লাখ টাকা। অর্থাৎ এক দিনের ব্যবধানে বাজার মূলধন কমেছে প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকা।
আজ ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নিয়েছে ৩৯৩টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ড। এর মধ্যে দর বেড়েছে ১৪৮টির, কমেছে ১৬৮টির, আর অপরিবর্তিত রয়েছে ৭৭টির দর।
পুঁজিবাজার বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে বাজারে সুশাসনের অভাব, তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর তথ্য অস্পষ্টতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের নিষ্ক্রিয়তা বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আস্থার সংকট। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে জরুরি ভিত্তিতে বাস্তবমুখী ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন তারা।