নির্বাচনের বিষয়ে সুস্পষ্ট রোড ম্যাপ চাইবে বিএনপি
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে সৃষ্টি হওয়া বিভ্রান্তি নিরসনে এবং নির্বাচনের নির্দিষ্ট সময়সীমা ও রোডম্যাপ ঘোষণার দাবিতে আজ বুধবার প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠকে বসতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল–বিএনপি। আজ দুপুর ১২টায় রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
বৈঠকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল অংশ নেবে। দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই বৈঠককে কেন্দ্র করেই নির্ধারিত হবে বিএনপির পরবর্তী রাজনৈতিক কর্মপন্থা।
বিএনপির একটি দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, বৈঠকে সরকার নির্বাচনের নির্দিষ্ট সময়সূচি ও রোডম্যাপ স্পষ্টভাবে জানালে বিএনপি নির্বাচনী প্রস্তুতিতে মনোযোগী হবে। অন্যথায় রাজনৈতিক কর্মসূচি ঘোষণার দিকে যাবে দলটি।
সোমবার সিঙ্গাপুর থেকে চিকিৎসা শেষে ঢাকায় ফিরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, নির্বাচন নিয়ে যে ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছে তার সমাধান আলোচনার মাধ্যমেই সম্ভব। আমরা সবসময় বলে আসছি, আলোচনা ও ঐক্যের ভিত্তিতেই একটি নতুন বাংলাদেশ গড়া সম্ভব।
দলটির স্থায়ী কমিটির এক সদস্য জানান, আগে অনুষ্ঠিত বৈঠকগুলোতে সরকারের পক্ষ থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচনের ইঙ্গিত দেওয়া হলেও এখন নানা মন্তব্যে বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। তিনি বলেন, প্রধান উপদেষ্টার কাছ থেকে আমরা চাই তিনি জাতির সামনে নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করবেন এবং নির্বাচন কমিশনকে প্রস্তুতি নিতে আনুষ্ঠানিক নির্দেশ দেবেন।
স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, গণতন্ত্রের পথে হাঁটতে গিয়ে বারবার উল্টো পথে যাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন দাবি করলেই দীর্ঘমেয়াদি সরকারের কথা কেন উঠে আসে? এতে জনগণের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ে।
বিএনপি নেতারা জানান, নির্বাচন ও প্রয়োজনীয় সংস্কার একসঙ্গে করা সম্ভব। দলের ভাষ্য, নির্বাচন-সংক্রান্ত সংস্কারগুলো নির্বাহী আদেশে সম্পন্ন করা যায়। সংবিধান সংশোধনের মতো বিষয়ে রাজনৈতিক ঐকমত্যের ভিত্তিতে নতুন সংসদে বাস্তবায়ন করা যেতে পারে।
এ প্রসঙ্গে স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, একজন উপদেষ্টা বলছেন ডিসেম্বরে নির্বাচন, আরেকজন বলেন জুনে। কেউ বলেন সরকার পাঁচ বছর থাকবে। এতে বিভ্রান্তিকর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। তাই আমরা স্পষ্ট ব্যাখ্যার জন্য প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে আলোচনা করতে যাচ্ছি।
এই পরিস্থিতিতে নির্বাচন নিয়ে স্পষ্টতা না এলে বিএনপি জনগণের সামনে ইতিবাচক কর্মসূচি নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে। এরই মধ্যে সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে দলটি।
এদিকে আগামীকাল বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় জাতীয় সংসদের এলডি হলে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে বিএনপির একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। গত ২৩ মার্চ কমিশনে সংস্কার-সংক্রান্ত মতামত জমা দেওয়ার পর এটিই হতে যাচ্ছে দুই পক্ষের প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক।
ঐকমত্য কমিশনের পক্ষ থেকে ৬ মার্চ ৩৭টি রাজনৈতিক দল ও জোটের কাছে পাঁচটি সংস্কার কমিশনের ১৬৬টি সুপারিশের বিষয়ে মতামত চেয়ে ‘স্প্রেড শিট’ পাঠানো হয়েছিল।