Mar 23, 2025
নানা প্রতিবন্ধকতার মধ্যে অনুশীলন করতে হচ্ছে বাংলাদেশকে

নানা প্রতিবন্ধকতার মধ্যে অনুশীলন করতে হচ্ছে বাংলাদেশকে

বাংলাদেশ-ভারত ফুটবল ম্যাচকে কেন্দ্র করে আয়োজকরা অত্যন্ত সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। ২৫ মার্চ এই ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে ভারতের জওহরলাল নেহেরু স্পোর্টস কমপ্লেক্সে, এবং স্টেডিয়াম এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা অতিরিক্তভাবে জোরদার করা হয়েছে। আয়োজকরা চান, যাতে কোনো ধরনের অঘটন ঘটতে না পারে এবং স্টেডিয়ামে প্রবেশকারী দর্শকরা যেন কোনোভাবেই নিরাপত্তা লঙ্ঘন না করেন।

গতকাল সকালে স্টেডিয়ামের গেট খোলা ছিল, যেখানে বাংলাদেশি দর্শকরা মাঠ দেখতে এসেছিলেন এবং ছবি তোলার চেষ্টা করছিলেন। এই ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর আয়োজকদের তরফ থেকে তৎকালীন সতর্কবার্তা পাঠানো হয়, যাতে স্টেডিয়ামের প্রধান গেট বন্ধ রাখা হয়। দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে স্টেডিয়ামের নিরাপত্তাকর্মীরা মাঠের বাইরে থাকা দর্শকদের সরিয়ে দেন। এতে স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে, স্টেডিয়ামে প্রবেশের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।

ভারতীয় ফুটবল দলও গতকাল জওহরলাল নেহেরু স্টেডিয়ামে অনুশীলন করেছে। তাদের অনুশীলন ছিল সম্পূর্ণ গোপন, যেখানে সাংবাদিকরা বাইরে বসে সময় কাটিয়েছেন, কিন্তু মাঠের ভেতরে প্রবেশের অনুমতি পায়নি। ভারতের ফুটবল শিবিরের এমন গোপনীয়তা বজায় রাখার চেষ্টা এই ম্যাচকে ঘিরে বিশেষ উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।

স্টেডিয়ামের বাইরে আরও একটি লড়াই চলে মাঠের অবস্থা নিয়ে। বাংলাদেশ দল শুরুতে নেহু বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঠে অনুশীলন করেছিল, কিন্তু মাঠের গুণগত মান নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে তারা দ্বিতীয়বার সেখানে অনুশীলন করতে রাজি হয়নি। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছে অন্য কোনো ভালো মাঠের আবেদন জানালেও, ভারতীয় ফুটবল ফেডারেশন জানিয়েছিল যে, নেহু স্টেডিয়াম ছাড়া কোনো মাঠ দেওয়া সম্ভব নয়। পরে, মাঠের ভাড়া এবং ফ্লাড লাইটের খরচ দিয়ে বিকালে সেখানে অনুশীলন করার সুযোগ পাওয়া যায়।

এদিকে, মাঠের শর্ত নিয়ে আলোচনা এবং অনুশীলনের সময়সূচি নিয়ে গতকাল বারবার পরিবর্তন ঘটেছিল। প্রথমে বলা হয়েছিল, ভারত দুপুরে অনুশীলন করবে, এবং বাংলাদেশ বিকালে ৪টা থেকে ৫টার মধ্যে অনুশীলন করবে। কিন্তু পরবর্তীতে বাংলাদেশ দলের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, নেহু স্টেডিয়ামে অনুশীলন করা তাদের জন্য উপযুক্ত নয়, কারণ মাঠটি ভালো অবস্থায় ছিল না।

বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড়রা, বিশেষ করে সাদ উদ্দিন ও হৃদয়, জানিয়েছেন যে তারা এই সমস্ত প্রতিবন্ধকতা মেনে নিয়েছেন এবং নিজেদের মানসিকভাবে প্রস্তুত রেখেছেন। সহকারী কোচ হাসান আল মামুনও বলেন, “আমরা জানি, ভারতে এসে এমন কিছু অসুবিধা হতে পারে, তবে আমরা আমাদের খেলোয়াড়দের মানসিকভাবে প্রস্তুত রাখছি যাতে তারা মাঠে তাদের সেরাটা দিতে পারে।

সবশেষে, ২৫ মার্চের ম্যাচটির দিকে নজর রেখে, বাংলাদেশ ফুটবল দল প্রস্তুতি নিচ্ছে। মাঠের বাইরের যেসব প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি তারা হচ্ছে, তাও তারা সাফল্যের সঙ্গে মোকাবিলা করতে প্রস্তুত।

All Categories