ম্যাডোনার অপেক্ষার অবসান

ম্যাডোনার অপেক্ষার অবসান

পপসংগীতের ইতিহাসে ‘রানী’ বলতেই যাঁর নাম প্রথমে মনে আসে, তিনি ম্যাডোনা। আলো, ঝলক, বিদ্রোহ আর নারীসত্তার সাহসী উচ্চারণ সব মিলিয়েই তৈরি হয়েছে এই ‘আইকন’। তাঁর জীবনের গল্প নিয়েই ২০২২ সালে শুরু হয়েছিল বায়োপিক নির্মাণের কাজ। তবে সিনেমা নয়, এবার সেই গল্প আসছে নতুন আঙ্গিকে নেটফ্লিক্সের একটি লিমিটেড সিরিজে।

চলতি বছরের মে মাসে মার্কিন বিনোদনবিষয়ক সাময়িকী ডেডলাইন জানায়, ম্যাডোনার জীবনের ওপর ভিত্তি করে তৈরি হতে যাওয়া সিরিজ পরিচালনা করবেন ডেডপুল অ্যান্ড উলভারিন-খ্যাত পরিচালক শন লেভি। অভিনয়ে থাকছেন ইনভেন্টিং আন্না-খ্যাত অভিনেত্রী জুলিয়া গার্নার, যিনি আগেই এই চরিত্রের জন্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।

২০২২ সালে নেটফ্লিক্স আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দেয় ম্যাডোনার চরিত্রে অভিনয় করবেন জুলিয়া গার্নার। তবে এই চরিত্র পাওয়া মোটেও সহজ ছিল না। গার্নারকে অডিশনে নাচতে হয়েছিল, তাও আবার ম্যাডোনার সামনে! সেই অভিজ্ঞতার কথা মনে করে এক সাক্ষাৎকারে গার্নার বলেন, ‘আমি ভাবলাম, ম্যাডোনা হলে কী করত? সে বলত এই জায়গাটা আমার প্রাপ্য। আমিও তাই করেছি।’

এরপর হঠাৎ সব কিছু থমকে যায়। ২০২৩ সালের শুরুতে জানা যায়, ছবিটির প্রাথমিক পরিকল্পনা থেকে ইউনিভার্সাল পিছু হটেছে। প্রজেক্টটি পড়ে থাকে অনিশ্চয়তায়।

এই বিরতির মধ্যেই বাস্তবে গড়ে ওঠে এক বন্ধুত্ব। কখনো স্টিভেন ক্লেইনের জন্মদিনের পার্টিতে, কখনো কনসার্টের মঞ্চে একসঙ্গে দেখা যায় ম্যাডোনা ও গার্নারকে।

২০২৪ সালের জুলাইয়ে ম্যাডোনা নিজেই জানান, আবারও তিনি তাঁর আত্মজীবনীমূলক গল্প লেখার কাজ শুরু করেছেন। সম্ভাব্য নাম হিসেবে উঠে আসে তাঁর জনপ্রিয় গান হু’স দ্যাট গার্ল (১৯৮৭)-এর নাম।

তবে চূড়ান্ত চমক আসে চলতি বছরের মে মাসে। জানা যায়, বায়োপিক নয়, ম্যাডোনার জীবনী এবার রূপ নিচ্ছে একটি লিমিটেড সিরিজে। এই সিরিজই হতে যাচ্ছে তাঁর জীবনের সবচেয়ে নাটকীয় অধ্যায়গুলোর অনুপম দলিল।

এ বিষয়ে সম্প্রতি এক পডকাস্টে জুলিয়া গার্নার বলেন, ‘ছবিটা এখনও হওয়ার কথা… মানে, এটা এখনও হচ্ছে।’ তাঁর কণ্ঠে ছিল আত্মবিশ্বাস, চোখেমুখে ছিল প্রত্যয়ের দীপ্তি—যেটা ম্যাডোনার চরিত্রেরই প্রতিচ্ছবি।

সিরিজটি মুক্তি পাবে নেটফ্লিক্সে। কত পর্বের সিরিজ, কবে নাগাদ আসছে, সেই বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। তবে এটি যে বিশ্বসংগীতের ইতিহাসে একটি স্মরণীয় নির্মাণ হতে যাচ্ছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

একদিকে বিশ্বসংগীতের সবচেয়ে আলোচিত, সমালোচিত ও সফল শিল্পীর জীবনের পর্দার পুনর্নির্মাণ, অন্যদিকে ম্যাডোনার নিজেই গল্পের কেন্দ্রে থাকার সিদ্ধান্ত—সব মিলিয়ে এটি হয়ে উঠতে যাচ্ছে পপসাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের নতুন সংযোজন।

All Categories