মুজিবুল হক চুন্নুই জাপার বৈধ মহাসচিব: ব্যারিস্টার আনিসুল
জাতীয় পার্টির (জাপা) সদ্য বহিষ্কৃত সিনিয়র কো–চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেছেন, আমরা এখনও স্বপদে বহাল রয়েছি। দলের মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নুকেও ‘বৈধ’ বলছেন তিনি। অন্যদিকে দলের চেয়ারম্যান জিএম কাদেরের নেতৃত্বে যেসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তাকে ‘গঠনতন্ত্রবহির্ভূত’ উল্লেখ করেছেন এই নেতা।
মঙ্গলবার রাজধানীর গুলশানে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন আনিসুল ইসলাম মাহমুদ। উপস্থিত ছিলেন বহিষ্কৃত মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু, দলটির শীর্ষ নেতা কাজী ফিরোজ রশীদসহ দলের আরও কয়েকজন প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সংসদ সদস্য।
গত সোমবার (৭ জুলাই) জিএম কাদের দলীয় এক প্রেসিডিয়াম সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, মুজিবুল হক চুন্নু ও সৈয়দ আবু হোসেন বাবলাকে জাতীয় পার্টির সব পদ থেকে অব্যাহতি দেন।
তবে সেই সভাকে ‘অবৈধ’ উল্লেখ করে আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেন, ‘সভায় কোরাম ছিল না। গঠনতন্ত্রের ২০(৩)(খ) অনুযায়ী, মহাসচিবের সঙ্গে আলোচনা করে চেয়ারম্যান সভা আহ্বান করতে পারেন। কিন্তু সেটা হয়নি।’
তিনি বলেন, ‘সম্মেলন ঘোষণার পর কোনো ধরনের পদোন্নতি বা অব্যাহতি অবৈধ। এমন সিদ্ধান্ত এককভাবে নেওয়ার এখতিয়ার চেয়ারম্যানের নেই।’
সংবাদ সম্মেলনে ক্ষোভ প্রকাশ করে মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, ‘আমাকে মহাসচিব পদ থেকে সরানো হয়েছে, তাও বুঝলাম। কিন্তু প্রাথমিক সদস্যপদও বাতিল করে দেওয়া হলো! আমার অপরাধটা কী?’
তিনি বলেন, ‘আমি ১৯৮৬ সাল থেকে দলটির সঙ্গে আছি। অথচ যিনি আমাকে বহিষ্কার করেছেন, তিনি ১৯৯৬ সালে সদস্য হয়েছেন। তাঁর একমাত্র যোগ্যতা তিনি এরশাদের ভাই।’
আনিসুল ইসলাম বলেন, ‘আমি দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ছিলাম। সেই ঘোষণা দিয়েছিলেন এরশাদ নিজে, জিএম কাদেরের উপস্থিতিতে। আজ জোর করে স্বাক্ষর নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। এটা যেন একপ্রকার ‘মিলিটারি কু’।’
তিনি দাবি করেন, তাঁরা শুধু গঠনতন্ত্রের ২০(১)(ক) ধারা বাতিলের দাবি তুলেছেন এবং দলের আর্থিক লেনদেনের স্বচ্ছতা চেয়েছেন। ‘এটিই যদি গঠনতন্ত্রবিরোধী হয়, তাহলে প্রশ্ন থেকে যায়,’ বলেন তিনি।
জাতীয় পার্টির জ্যেষ্ঠ নেতা কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, ‘জিএম কাদের একে একে সবাইকে দলে থেকে বের করে দিয়েছেন। আজ দল ছোট হতে হতে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে।’
সংবাদ সম্মেলনে দলের মধ্যে দ্রুত সম্মেলনের মাধ্যমে ঐক্য প্রতিষ্ঠার দাবি জানান নেতারা।
জাপা বরাবরই ভাঙনের রাজনীতিতে পরিচিত। এরশাদের জীবদ্দশায়ই দল চার ভাগে বিভক্ত হয়। জেপি (মঞ্জু), জাপা (জাফর), বিজেপি ও মূল জাপা। পরে এরশাদের স্ত্রী রওশন এরশাদের নেতৃত্বেও একটি গ্রুপ গঠিত হয়।
সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে আবারও নতুন একটি দল গঠনের ইঙ্গিত দিচ্ছেন অনেকে। তবে দলীয় ঐক্য টিকিয়ে রাখতে সম্মেলনের মাধ্যমেই সমাধান চাচ্ছেন বহিষ্কৃত নেতারা।