মোনালিসার রহস্যময় হাসির পেছনের রহস্য!
চোখ দুটো যেন কিছু বলতে চায়। আর ঠোঁটে সেই হাসি… যার রহস্য ৫শ’ বছরেও উদঘাটন করতে পারছেন না শিল্পপ্রেমীরা! সেই হাসি যে একবার দেখলে ভোলা যায় না। হ্যাঁ, মোনালিসাকে নিয়েই কথা হচ্ছে! ফ্রান্সের লুভর মিউজিয়ামে থাকা সেই মোনালিসা! লিউনার্দো দ্য ভিঞ্চির এক অমর সৃষ্টি!
মোনালিসা কিন্তু সত্যিই ছিলেন! ভিঞ্চি নাকি লিসা গেরার্ডিনি নামে এক নারীকে দেখে এঁকেছিলেন মোনালিসাকে! ইতিহাসবিদদের এ ধারণাটি কিন্তু যতদিন যাচ্ছে ক্রমশ জোরালো হচ্ছে! কে এই লিসা গেরার্ডিনি? জানা গেছে, ১৪৭৯ সালের ১৫ জুন রিপাবলিক অব ফ্লোরেন্সের জন্মগ্রহণ করেন লিসা। মৃত্যু ১৫৪২ সালের একই দিনে। জীবদ্দশায় তিনি ছিলেন ফ্লোরেন্সের এক নামকরা ব্যবসায়ী ফ্রান্সেসকো দেল জিওকোন্ডোর স্ত্রী।!
কেউ কেউ আবার মনে করেন, মোনালিসা আদৌ বাস্তব কোনো চরিত্র নয়, বরং লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চির কল্পনার একটি প্রতিকৃতি, যা সাধারণ নারীদের প্রতিনিধিত্ব করে। আবার অনেকের মতে, এই মোনালিসা আর কেউ নন, স্বয়ং ভিঞ্চির নারী সংস্করণ! নারী হলে তাকে দেখতে কেমন লাগত তা দেখতেই নাকি ছবিটি তাঁর আঁকা!
ভিঞ্চির নারী সংস্করণ বলার কারণও কিন্তু উড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই। কিছু গবেষকের মতে, মোনালিসার মুখভঙ্গি আর চোখ-চিবুকের গড়ন নাকি দ্য ভিঞ্চির মুখের সঙ্গেই মিলে যায়!তাছাড়া, ভিঞ্চির কোনো নিশ্চিত সেলফ-পোর্ট্রেট পাওয়া যায়নি। তাই হয়তো এ ধারণার জন্ম!
১৮০৪ সাল থেকে ফ্রান্সের প্যারিসের লুভর মিউজিয়ামে থাকা বিশ্ববিখ্যাত এ চিত্রকলাটি নিয়ে এখনও কৌতূহলের শেষ নেই। মোনালিসার হাসির মাত্রা কেমন, মোনালিসার ভ্রু আছে নাকি নেই! মোনালিসা নারী না ভিঞ্চির ফিমেইল ভার্সন এ সব কিছু নিয়েই জল্পনা-কল্পনা চলে সবসময়!
মোনালিসার মাথার ওপর দেখা যায় এক ধরনের চুলের ক্লিপ, যা লিসার আমলের ফ্যাশন ছিল না। তাহলে কি ছবির নারী, আদৌ লিসা বা বা ভিঞ্চির নারী সংস্করণ নয়? অর্থাৎ মোনালিসা সম্পূর্ণটাই ভিঞ্চির সৃষ্ট কোনো দেবীর প্রতিচ্ছবি? কে জানে, হলেও হতে পারে!
যাহোক, চিত্রটি নিয়ে বেশ চমকপ্রদ বিষয় আবিষ্কার করে সবাইকে রীতিমতো হকচকিয়ে দিয়েছেন প্যাসকেল কোটে নামে ফরাসি এক প্রকৌশলী!
ছবিটি ২৪০ মেগাপিক্সেল স্ক্যানিংয়ের মাধ্যমে তিনি আবিষ্কার করেছেন—বিখ্যাত এ ছবিটির নিচে রয়েছে আরেকটি মুখাবয়ব, যা খালি চোখে দেখা যায় না!
এর ব্যাখ্যাও দেন কোটে, তার মতে, লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চি “স্পোভেরো” নামে এক পদ্ধতিতে আগে স্কেচ করতেন, তারপর ফুটো করে সেটা ক্যানভাসে স্থানান্তর করতেন, এজন্যই হয়তো ছবির নিচে সেই লুকিয়ে রয়েছে আরেকটি ছবি!
মোনাালিসার হাসির মতোই, তার ভ্রু কেন নেই এটা নিয়েও হয়েছে বিস্তর আলোচনা! রহস্যময় মোনালিসার ছবিটিতে এ পর্যন্ত ৬বার হামলা হয়েছে! এসিড ছোঁড়া, কেক মারা, চা ভর্তি কাপ ছুঁড়ে ফেলা কোনো কিছুই বাদ যায়নি! আর এ কারণেই নাকি ভ্রুর রংটা হালকা উঠে গেছে মোনালিসার, এমন ভাবতেও কেউ কেউ ভালোবাসেন। এছাড়া একবার চুরিও হয়েছিল পেইন্টিংটি! তবে ছবিটির বয়স অনেক বছর হয়ে যাওয়াতে ভ্রুয়ের রং হালকা হয়ে গেছে বলেই ধারণা বেশিরভাগ গবেষকদের!
তবে যত হামলাই হোক আর বয়সই হোক, সবাইকে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে রহস্যময় হাসির মোনালিসা বহাল তবিয়তে টিকে থাক হাজার বছর!
সূত্র: আর্ট এন্ড অবজেক্ট ম্যাগাজিন