মিউনিখে ইতিহাস গড়ে প্রথমবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগের চ্যাম্পিয়ন পিএসজি
মিউনিখের মাঠে চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনাল মানেই যেন নতুন কোনো রাজপুত্রের অভিষেক। অলিখিত সেই নিয়মেই এবার ইউরোপসেরা হলো প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি)।
শনিবার (৩১ মে) রাতে মিউনিখের আলিয়াঞ্জ অ্যারেনায় তিনবারের ইউরোপ চ্যাম্পিয়ন ইন্টার মিলানকে ৫-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতেছে ফরাসি ক্লাবটি।
১৯ বছর বয়সী দিজিরে দুয়ের জোড়া গোল ও এক অ্যাসিস্টে ভর করে গড়া এই জয়ে লুইস এনরিকের পিএসজি নিশ্চিত করেছে মর্যাদাপূর্ণ ট্রেবলও—চ্যাম্পিয়নস লিগ, লিগ ওয়ান ও ফ্রেঞ্চ কাপের শিরোপা এক মৌসুমে ঘরে তুলেছে প্যারিসিয়ানরা।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবলে ইন্টারকে কোণঠাসা করে ফেলে পিএসজি। ১২তম মিনিটে তরুণ দুয়ের পাস থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন আশরাফ হাকিমি। ২০ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন দুয়ে নিজেই। চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতা হিসেবে রেকর্ড গড়েন তিনি।
দ্বিতীয়ার্ধে ৬৩ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোল করে ইন্টারের ফেরার সম্ভাবনাও শেষ করে দেন এই ফরাসি ফরোয়ার্ড। ৭৩ মিনিটে শীতকালীন দলবদলে নাপোলি থেকে আসা খাভিচা খাভারাস্তেলিয়া পিএসজির হয়ে চতুর্থ গোল করেন। ম্যাচের শেষদিকে বদলি খেলোয়াড় মায়ুলু ৮৬ মিনিটে পঞ্চম গোল করে ইন্টারকে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ব্যবধানে ফাইনালে হারানোর কষ্ট উপহার দেন।
চ্যাম্পিয়নস লিগের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো দল ফাইনালে পাঁচ গোল করেছে। একই সঙ্গে ১৯৯৩ সালে অলিম্পিক মার্সেইয়ের পর দ্বিতীয় ফরাসি ক্লাব হিসেবে ইউরোপের শিরোপা ঘরে তুলল পিএসজি। কাকতালীয়ভাবে, সেবারও ফাইনাল হয়েছিল মিউনিখে, আর প্রতিপক্ষ ছিল ইতালির আরেক ক্লাব এসি মিলান।
এনরিকের শিষ্যরা শুধু জেতেনি, রীতিমতো ইতিহাস লিখেছে। পিএসজির আগের বহু প্রচেষ্টা, বড় তারকায় গড়া দল, কোটি কোটি ইউরোর বিনিয়োগ—সব ব্যর্থ হয়েছিল। মেসি, নেইমার, এমবাপ্পে, রামোসদের দিয়ে যা হয়নি, সেটাই করে দেখাল কিছু তরুণ ফুটবলার।
বার্সেলোনার পর পিএসজিকেও চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতানোর কীর্তি গড়লেন কোচ লুইস এনরিকে। আর প্যারিসে পূরণ হলো কাতারি মালিকানার বহু কাঙ্ক্ষিত স্বপ্ন।
মিউনিখের অলিখিত নিয়ম এবার পিএসজিকে লিখিয়ে দিল ফুটবলের ইতিহাসে।