"মানুষের প্রত্যাশা যেন হতাশা ও দুঃস্বপ্নে পরিণত না হয়" – ওয়ার্কার্স পার্টি
দীর্ঘদিনের সংগ্রাম ও আন্দোলনের মধ্য দিয়ে মানুষের মধ্যে যে বিশাল প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, তা যেন হতাশায় কিংবা দুঃস্বপ্নে পরিণত না হয় এমনটাই চায় বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি। জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে সংলাপে দলটির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেছেন, এই প্রত্যাশা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সবাই মিলে কাজ করতে হবে।
মঙ্গলবার (২৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের এলডি হলে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে সংলাপে সূচনা বক্তব্যে এসব কথা বলেন সাইফুল হক।
তিনি বলেন, আমরা এমন একটি সংবিধান চাই যেখানে কোনো নাগরিক রাজনৈতিক, ধর্মীয় বা সাংস্কৃতিক মতাদর্শের কারণে রাষ্ট্রীয় অধিকার থেকে বঞ্চিত হবে না। প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
আমরা চাই না দেশ আবার সেই জামানায় ফিরে যাক, যেখানে একটি দল কর্তৃত্ববাদী রূপ নেয় এবং নেতৃত্বে আসে ফ্যাসিবাদী দুঃশাসন। এবারের ছাত্র-শ্রমিক-জনতার গণঅভ্যুত্থান নতুন একটি গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার বার্তা দিয়েছে।
সাইফুল হক বলেন , নির্বাচন ও সংস্কার এই দুই প্রক্রিয়া একসঙ্গে বিবেচনায় নিয়ে আগামী দিনগুলোতে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে হবে। তিনি বলেন, কল্যাণমূলক রাষ্ট্র গড়তে হলে সংবিধান ও রাষ্ট্র ব্যবস্থায় এমন কাঠামো নিশ্চিত করতে হবে যেখানে ক্ষমতা হবে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক। কেউ যেন ক্ষমতাকে নিজের ইচ্ছেমতো ব্যবহারের লাইসেন্স না ভাবে।
জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের উদ্দেশে তিনি বলেন, কমিশনের পক্ষপাতহীন অবস্থান ও নিরপেক্ষতা এই প্রক্রিয়ায় গণতান্ত্রিক শক্তিগুলোর আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে সঞ্চালকের ভূমিকা পালন করতে পারে। আমাদের উচিত জাতীয় ঐক্যের জায়গাটাকে কেন্দ্র করেই পথ খোঁজা।
রাষ্ট্র সংস্কারের বিষয়ে তিনি বলেন, যেহেতু রাজনৈতিক দলগুলোর অঙ্গীকার রয়েছে, জনগণের প্রত্যাশা রয়েছে, তাই জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের প্রজ্ঞা ও দূরদর্শিতা থাকলে আগামী জুনের মধ্যেই ন্যূনতম বোঝাপড়ার ভিত্তিতে জাতীয় ঐক্যমত্য তৈরি হতে পারে। এটাই হবে গণঅভ্যুত্থানের একটি রাজনৈতিক অর্জন।
সংলাপে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ। তিনি বলেন, ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসন দেশের প্রাতিষ্ঠানিক সম্ভাবনাকে প্রায় নিশ্চিহ্ন করে দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে একটি জাতীয় সনদ গঠনের লক্ষ্যে কমিশন কাজ করছে, যাতে সবাই মিলে রাষ্ট্র বিনির্মাণে অংশ নিতে পারে।
অধ্যাপক রীয়াজ আরও বলেন, আজ আমরা যেটুকু বলার সুযোগ পেয়েছি, সেটা এসেছে মানুষের রক্ত ও আত্মত্যাগের বিনিময়ে। এই মুহূর্তে আমাদের কাজ হচ্ছে, সকলে মিলে সেই পথকে দৃঢ়ভাবে গড়ে তোলা।
বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হকের নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল সংলাপে অংশ নেয়। প্রতিনিধি দলে ছিলেন রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য বহ্নিশিখা জামালী, আকবর খান, আবু হাসান টিপু, আনছার আলী দুলাল, মীর মোফাজ্জল হোসেন মুশতাক ও মাহমুদ হোসেন। এছাড়া কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রাশিদা বেগম, সাইফুল ইসলাম ও শেখ মো. শিমুলও উপস্থিত ছিলেন।
সংলাপটি সঞ্চালনা করেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার। এতে উপস্থিত ছিলেন কমিশনের সদস্য সফর রাজ হোসেন, বদিউল আলম মজুমদার ও ইফতেখারুজ্জামান।
রাষ্ট্র সংস্কারের বিষয়ে মতামত নিতে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন ৩৯টি রাজনৈতিক দলের কাছে স্প্রেডশিট পাঠায়। এর মধ্যে ৩৫টি দল মতামত জমা দিয়েছে এবং ইতোমধ্যে ২০টি দলের সঙ্গে সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি ছিল একবিংশতম দল যাদের সঙ্গে সংলাপ অনুষ্ঠিত হলো।