মানবতাবিরোধী অপরাধের দুই মামলায় ট্রাইব্যুনালে ১৩ সেনা কর্মকর্তা
মানবতাবিরোধী অপরাধের পৃথক দুই মামলায় গ্রেপ্তার থাকা ১৩ সেনা কর্মকর্তাকে আজ রোববার সকালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে। সকাল ১০টার দিকে কড়া নিরাপত্তায় সবুজ রঙের একটি প্রিজনভ্যানে করে তাঁদের বাংলাদেশ জেল থেকে ট্রাইব্যুনালে আনা হয়।
টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন সেল (টিএফআই সেল)–এ গুম করে রাখার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় আসামি ১৭ জন। তাঁদের মধ্যে গ্রেপ্তার ১০ জন হলেন—ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তোফায়েল মোস্তফা সারোয়ার, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. কামরুল হাসান, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহাবুব আলম, ব্রিগেডিয়ার কে এম আজাদ, কর্নেল আবদুল্লাহ আল মোমেন, কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান (অবসর প্রস্তুতিমূলক ছুটিতে), লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মশিউর রহমান, লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাইফুল ইসলাম সুমন ও লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. সারওয়ার বিন কাশেম।
জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান–পূর্ববর্তী সময়ে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এই মামলার প্রথম সাতজন আসামি র্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক এবং শেষ তিনজন র্যাবের গোয়েন্দা শাখার পরিচালক হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। এ মামলার বাকি সাত আসামি ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা তারিক আহমেদ সিদ্দিকসহ পলাতক।
অন্যদিকে, জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেল (জেআইসি)–এ গুম করে রাখার অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের আরেক মামলায় আসামি ১৩ জন। তাঁদের মধ্যে গ্রেপ্তার তিনজন হলেন প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সাবেক পরিচালক মেজর জেনারেল শেখ মো. সরওয়ার হোসেন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান সিদ্দিকী ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভির মাজাহার সিদ্দিকী। আজ তাঁদেরও ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।
এই মামলার অন্য ১০ আসামি ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক উপদেষ্টা তারিক আহমেদ সিদ্দিকসহ—পলাতক। গত ২২ অক্টোবর গ্রেপ্তার আসামিদের আগেও এক দফা ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছিল।