মামদানির জয়, প্রথম মুসলিম মেয়র পেলো নিউইয়র্ক
নিউ ইয়র্ক সিটি পেয়েছে তাদের ইতিহাসের এক নতুন অধ্যায়। ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রার্থী হিসেবে ভারতীয় বংশোদ্ভূত জোহরান মামদানি নির্বাচিত হয়েছেন শহরের ১১১তম মেয়র হিসেবে। মাত্র ৩৪ বছর বয়সে তিনি হয়েছেন নিউইয়র্কের প্রথম মুসলিম ও প্রথম মিলেনিয়াল মেয়র।
মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত নির্বাচনে মামদানি সহজ ব্যবধানে পরাজিত করেন সাবেক গভর্নর অ্যান্ড্রু কুয়োমো এবং রিপাবলিকান প্রার্থী কার্টিস স্লিওয়াকে। মাত্র এক বছর আগে রাজনীতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করা এই তরুণ রাজনীতিবিদ অল্প সময়ে উঠে এসেছেন নিউইয়র্কের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে। স্টেট অ্যাসেম্বলিম্যান থেকে মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে আমেরিকার সবচেয়ে বড় শহরের নেতৃত্বে—এ যেন এক অভূতপূর্ব উত্থানের গল্প।
জীবনযাত্রার ব্যয় ও ভাড়ার সংকটকে সামনে রেখে গড়েন তাঁর প্রচারণা। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন— শহরে ভাড়া বৃদ্ধি স্থগিত রাখা, সিটি-স্বত্বাধীন মুদি দোকান চালু করা, গণপরিবহনে, বিশেষ করে বাসযাত্রায়, সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ব্যবস্থা চালুর, এই প্রগতিশীল ইশতেহার শহরের তরুণ, নিম্ন ও মধ্যবিত্ত ভোটারদের উল্লেখযোগ্যভাবে আকৃষ্ট করে।
এবার আগাম ভোটে অংশ নেন প্রায় ৭ লাখ ৩৫ হাজার ৩১৭ জন ভোটার—যা নিউইয়র্ক শহরে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ছাড়া অন্য কোনো নির্বাচনে সর্বোচ্চ।
প্রসঙ্গত, মাত্র পাঁচ মাস আগে প্রাইমারিতেও অ্যান্ড্রু কুয়োমোকে পরাজিত করেছিলেন মামদানি। ট্রাম্পের শেষ মুহূর্তের সমর্থনও কুয়োমোকে উদ্ধার করতে পারেনি; বরং নিউইয়র্কের উদারপন্থী সমাজে তা উল্টো প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।
গ্লোবালাইজ দ্য ইন্তিফাদা স্লোগানকে প্রথমে প্রকাশ্যে নিন্দা না করায় মামদানি সমালোচনার মুখে পড়েন। ইসরায়েলপন্থিদের অভিযোগ—এই স্লোগান ইহুদি ও জায়নিস্টদের বিরুদ্ধে সহিংসতা উসকে দিতে পারে। তবে পরে মামদানি স্পষ্ট করে জানান, তিনি নিজে এ স্লোগান ব্যবহার করবেন না এবং অন্যদেরও তা থেকে বিরত থাকতে উৎসাহিত করবেন। ফিলিস্তিনপন্থীদের চোখে এটি আবার স্বাধীনতার প্রতীক।
এই বিজয়ে ডেমোক্র্যাট শিবিরে উচ্ছ্বাস থাকলেও এখন প্রশ্ন একটাই—কতটা বাস্তবায়ন করতে পারবেন তাঁর উচ্চাভিলাষী কর্মসূচি? ট্রাম্প প্রশাসনের দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউসের সঙ্গে সম্পর্ক কেমন হবে, সেটিও বড় বিবেচ্য।
জোহরান মামদানির জয়ে নিউইয়র্কের রাজনীতি নতুন দিকচিহ্ন পেয়েছে। তবে সামনে অপেক্ষা করছে আরও বড় পরীক্ষা—প্রত্যাশা পূরণ করে তিনি কি পারবেন সত্যিকারের “জনতার মেয়র” হয়ে উঠতে?