মালয়েশিয়ায় বিশেষ অভিযানে ৩৭৭ বাংলাদেশিসহ ৭৭০ অভিবাসী আটক
মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরের বুকিত বিন্তাং এলাকায় বিশেষ অভিযানে ৭৭০ জন অবৈধ অভিবাসীকে আটক করেছে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ। তাঁদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশি সংখ্যা ৩৭৭ জন।
রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা বারনামার খবরে বলা হয়েছে, গত রোববার (১ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৭টা থেকে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত চলা এ অভিযানে মোট ২ হাজার ৪৪৫ জনকে তল্লাশি করা হয়। এর মধ্যে ছিলেন ১ হাজার ৬০০ জন বিদেশি ও ৮৪৫ জন স্থানীয়। তল্লাশির পর ৭৭০ জন বিদেশিকে আটক করা হয়।
আটকদের মধ্যে বাংলাদেশি ছাড়াও মিয়ানমারের ২৩৫ জন, ভারতের ৫৮ জন, নেপালের ৭২ জন, ইন্দোনেশিয়ার ১৯ জন (১৭ জন পুরুষ ও দুই নারী) এবং অন্যান্য দেশের ৯ জন (৩ জন পুরুষ, ৬ জন নারী) রয়েছেন। তাঁদের বয়স ২১ থেকে ৬৫ বছরের মধ্যে।
ইমিগ্রেশন প্রয়োগ শাখার পরিচালক বাসরি উসমান জানান, স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে এ অভিযান চালানো হয়। দীর্ঘদিন ধরে বুকিত বিন্তাং এলাকায় বিদেশিদের অবৈধ কর্মকাণ্ড নিয়ে স্থানীয়দের অসন্তোষ ছিল।
অভিযানের সময় অনেকেই পালানোর চেষ্টা করেন। কেউ দোকানের ভেতরে, কেউ টেবিলের নিচে, আবার কেউ ছাদে উঠে লুকানোর চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত সবাই ধরা পড়েন। অভিযানে ১০৬ জন কর্মকর্তা অংশ নেন।
বাসরি উসমান আরও জানান, অভিযানে একটি অবৈধ অনলাইন জুয়ার আসরও ধরা পড়ে। সেখানে সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে নজরদারির ব্যবস্থা ছিল। কর্মকর্তারা দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করলে তখনও সাতজন বিদেশি জুয়ায় মত্ত ছিলেন। সেখান থেকে আটজনকে আটক করা হয়।
আটকদের পুত্রজায়ার ইমিগ্রেশন কার্যালয়ে নিয়ে প্রাথমিক যাচাই শেষে বুকিত জলিল ও লেংগেং আটক কেন্দ্রে পাঠানো হবে। তাঁদের বিরুদ্ধে অভিবাসন আইন ১৯৫৯/৬৩–এর ধারা ৬(১)(সি), ১৫(১)(সি) এবং অভিবাসন বিধিমালা ১৯৬৩–এর ৩৯(বি) লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছে। এ ছাড়া পাসপোর্ট আইন, ১৯৬৬ এবং মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান বিরোধী আইন, ২০০৭–এর অধীনে তদন্ত চলছে।
বাসরি উসমান বলেন, অবৈধ অভিবাসীদের আশ্রয় দিলে নিয়োগকর্তা বা স্থানীয়দের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জনগণ সহযোগিতা করলে অভিযানে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হবে।