মাগুরার শিশুটির অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন আরও দু’বার কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট
মাগুরায় একটি শিশুর শারীরিক অবস্থা বর্তমানে অত্যন্ত সংকটজনক। আজ (বৃহস্পতিবার) শিশুটির শরীরে আরও দু'বার কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট (হৃৎস্পন্দন বন্ধ হয়ে যাওয়া) হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন,তার মস্তিষ্কের কার্যকারিতা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে এবং তাকে কোমায় রাখা হয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে ১৩ মার্চ প্রকাশিত একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় শিশুটির দ্বিতীয় কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের সময় প্রায় ৩০ মিনিট সিপিআর (কৃত্রিম শ্বাসপ্রশ্বাস) দেওয়ার পর তার হৃৎস্পন্দন ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে তবে তার মস্তিষ্কের অবস্থা অত্যন্ত গুরুতর। শিশুটির গ্লাসগো কোমা স্কেল (জিসিএস) ৩ যা মস্তিষ্কের প্রতিক্রিয়াহীন অবস্থাকে নির্দেশ করে। এই স্কেলে স্বাভাবিক মানুষের স্কোর ১৫ এবং ৩ স্কোরকে মস্তিষ্কের গভীর ক্ষতি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
শিশুটির রক্তচাপ এবং অক্সিজেন লেভেল অত্যন্ত কমে গেছে যা তার অবস্থাকে আরও জটিল করে তুলছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন তার শারীরিক অবস্থা অবনতির দিকে চলছে এবং বর্তমানে সে সবচেয়ে সংকটাপন্ন পর্যায়ে রয়েছে।
গত বুধবার (১২ মার্চ) শিশুটির প্রথম কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হয় এবং চিকিৎসার মাধ্যমে তার হৃৎস্পন্দন ফিরিয়ে আনা সম্ভব হলেও পরে আবার দ্বিতীয়বার একই ঘটনা ঘটে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন শিশুটির মস্তিষ্কের ক্ষতির প্রধান কারণ ছিল দীর্ঘ সময় অক্সিজেনের অভাব। তাকে দ্রুত অক্সিজেন সরবরাহ করা হলে মস্তিষ্কের ক্ষতি এতটা গুরুতর হতো না।
শিশুটির ওপর নির্যাতনের ঘটনা ঘটে গত ৬ মার্চ, যখন তাকে তার বোনের শ্বশুর হিটু শেখ (৫০) ধর্ষণের চেষ্টা করেন। ওই দিন দুপুর ১১টার দিকে শিশুটিকে অচেতন অবস্থায় মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। পরে তার অবস্থা অবনতি হলে তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয় এবং পরবর্তীতে ঢাকার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। তার শারীরিক অবস্থা আরও খারাপ হলে তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয় এবং পরে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) ভর্তি করা হয়।
ধর্ষণের ঘটনায় শিশুটির দুলাভাইসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মাগুরা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ৯ মার্চ তাদের রিমান্ড শুনানি করে হিটু শেখকে ৭ দিনের রিমান্ড এবং সজীব হোসেন রাতুল শেখ ও জাবেদা বেগমকে ৫ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।
শিশুটির চিকিৎসা এখনও চলমান এবং দেশের মানুষ তার দ্রুত সুস্থতার জন্য প্রার্থনা করছেন।