‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’ ধ্বনিতে মুখরিত মিনা, হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু
সৌদি আরবের মক্কায় শুরু হয়েছে পবিত্র হজের আনুষ্ঠানিকতা। আজ বুধবার হিজরি ১৪৪৬ সনের জিলহজ মাসের ৮ তারিখ। দিনটি ইসলামে ‘ইয়াওমুত তারওয়িয়াহ’ নামে পরিচিত। এ দিন ভোর থেকে হাজিরা মক্কার বিভিন্ন আবাসন কেন্দ্র থেকে মিনার উদ্দেশে রওনা হন।
মিনায় অবস্থানের মধ্য দিয়ে শুরু হয় হজের আনুষ্ঠানিকতা। আগামীকাল ৯ জিলহজ হাজিরা অবস্থান করবেন আরাফাতের ময়দানে। সেখানে দিনভর ইবাদত করবেন। ১০ জিলহজ পশু কোরবানির মধ্য দিয়ে উদ্যাপন করবেন ঈদুল আজহা। এরপর হাজিরা মিনায় ফিরে আরও দুই দিন অবস্থান করবেন এবং প্রতিদিন তিনটি জামারায় পাথর নিক্ষেপ করবেন।
মক্কা ও পবিত্র স্থানসমূহের রাজকীয় কমিশনের সাধারণ পরিবহন কেন্দ্রের হজ ও ওমরাহ বিভাগের মহাপরিচালক ড. মোহাম্মদ আল-কারনি জানিয়েছেন, এ বছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে এসেছেন ১৪ লাখ ৭০ হাজারের বেশি আন্তর্জাতিক হাজি। এ ছাড়া কয়েক লাখ অভ্যন্তরীণ হাজিও হজে অংশ নিচ্ছেন।
ড. কারনি বলেন, গত ৩৬ দিন ধরে ধাপে ধাপে আন্তর্জাতিক হাজিরা মক্কায় এসেছেন। তাঁদের যাতায়াতে এখন পর্যন্ত কোনো বিঘ্ন ঘটেনি। অভ্যন্তরীণ হাজিরাও মক্কায় এসে তাওয়াফুল কুদূম সম্পন্ন করে মিনার পথে রওনা হয়েছেন।
হাজিদের মিনায় যাত্রা শুরু হয়েছে মঙ্গলবার রাত ৮টা থেকে, চলবে বুধবার সকাল ১০টা পর্যন্ত। মিনার পর্ব শেষে হাজিরা যাবেন আরাফাতের ময়দানে। সেখানে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে তিন ধরনের পরিবহন ব্যবস্থা। এর মধ্যে মাশায়ির ট্রেনে যাবেন ৩ লাখ ১৬ হাজার হাজি, আর বহুমুখী ও ঐতিহ্যবাহী পরিবহন ব্যবস্থায় যাবেন প্রায় ৭ লাখ ২০ হাজার হাজি।
মিনা অঞ্চলের ঐতিহাসিক আল-খায়ফ মসজিদ হাজিদের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। ইসলামিক অ্যাফেয়ার্স, দাওয়াহ ও গাইডেন্স মন্ত্রণালয়ের ব্যবস্থাপনায় ২৭ হাজার বর্গমিটার এলাকায় জায়নামাজ বিছানো হয়েছে।
এ বছর মসজিদটিতে যুক্ত হয়েছে আধুনিক শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ও বায়ুচলাচল ব্যবস্থা। স্থাপন করা হয়েছে উন্নত কুলিং ইউনিট, স্মার্ট নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ও কার্বন ডাই–অক্সাইড পর্যবেক্ষণ প্রযুক্তি, যা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফ্যান ও কুলার চালু করে হাজিদের আরাম নিশ্চিত করবে।
তীব্র গরমের আশঙ্কায় স্বাস্থ্যসেবায় নেওয়া হয়েছে বাড়তি প্রস্তুতি। সৌদি আরবের স্বাস্থ্য উপমন্ত্রী ড. আব্দুল্লাহ আসির জানিয়েছেন, এবার হজে ৫০ হাজারের বেশি স্বাস্থ্যকর্মী ও প্রশাসনিক কর্মী নিয়োজিত রয়েছেন।
তিনি বলেন, গরমজনিত অসুস্থতার চিকিৎসায় প্রস্তুত রাখা হয়েছে ৭০০–এর বেশি হাসপাতালে শীতলীকরণ–সংবলিত শয্যা। চিকিৎসাসেবা সক্ষমতা গত বছরের তুলনায় ৬০ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে।
সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হাজিদের নিরাপত্তা, আরাম ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে হজ পালনের আশা করছে তারা।