কথা বলেছেন খালেদা জিয়া, তবে এখনও কাটেনি সংকট

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থায় তিন দিনের তুলনায় সামান্য অগ্রগতি দেখা গেলেও সামগ্রিক সংকট এখনো কাটেনি। টানা চার দিন ডায়ালাইসিসের মধ্যে থাকা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শনিবার সকালে অল্প কিছু কথা বলেছেন বলে চিকিৎসক ও পরিবার–ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে।

হাসপাতালের সিসিইউতে থাকা খালেদা জিয়া গত বুধবার থেকে প্রায় সাড়া দিচ্ছিলেন না। শনিবার সকালে তাঁর শয্যার পাশে থাকা প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শামিলা রহমানকে তিনি সংক্ষিপ্তভাবে কিছু বলেন। চিকিৎসকেরা এটিকে ইতিবাচক লক্ষণ হিসেবে দেখছেন। তবে তাঁদের মতে, এটি স্থায়ী উন্নতির ইঙ্গিত নয়।

চিকিৎসাসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কিডনি কার্যকারিতা মারাত্মকভাবে কমে যাওয়ায় তাঁর শরীরে, বিশেষ করে ফুসফুসে অতিরিক্ত পানি জমে তীব্র শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বুধবার থেকে তাঁকে নিয়মিত ডায়ালাইসিস দেওয়া হচ্ছে। তবে কিডনি ফাংশন স্থিতিশীল না হলে তাঁর সার্বিক শারীরিক অবস্থার উন্নতি কঠিন।

দেশি–বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ড তাঁর উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত পুনর্ব্যক্ত করেছে। শারীরিক অবস্থা অনুমতি দিলে তাঁকে লন্ডন ক্লিনিকে নেওয়ার কথা বিবেচনায় রয়েছে। দীর্ঘ ফ্লাইট ঝুঁকিপূর্ণ হলে সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালও বিকল্প হিসেবে রাখা হয়েছে। কিন্তু চিকিৎসকেরা মনে করছেন, বর্তমান অবস্থা বিমানযাত্রার জন্য উপযোগী নয়।

শনিবার বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “বিদেশে নিতে সব প্রস্তুতি রাখা হয়েছে। কিন্তু চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, এখনই সেই ধকল নেওয়ার মতো অবস্থায় নেই।”

এদিকে খালেদা জিয়ার অসুস্থতার খবর ছড়িয়ে পড়লে এভারকেয়ার হাসপাতালের সামনে বিএনপি নেতা–কর্মী ও সমর্থকের ভিড় দেখা যায়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ চিকিৎসার স্বার্থে ভিড় না করার অনুরোধ জানিয়েছে।

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর দ্রুত আরোগ্য কামনা করে দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন।

চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, তাঁর শারীরিক অবস্থার জন্য আগামী কয়েকটি দিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, এবং পরিস্থিতি যেকোনো সময় পরিবর্তিত হতে পারে।

All Categories