কর্মবিরতি প্রত্যাহার মেট্রোরেলের একক যাত্রার টিকিট বিক্রি শুরু
ঢাকা ম্যাস র্যাপিড ট্রানজিট (এমআরটি) পুলিশ কর্তৃক মেট্রোরেলের চার কর্মীকে মৌখিক ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার ঘটনায় ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়। এই ঘটনার পরই কর্মবিরতি ঘোষণা করেছিল মেট্রোরেল কর্মীরা। তবে, সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের পর সোমবার সকাল থেকে মেট্রোরেল পুনরায় শিডিউল অনুযায়ী চালু হয় এবং কর্মীরা কাজে ফিরেছেন।
ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ফজলুল হক সাংবাদিকদের জানান, মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যেই একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। যারা এই ঘটনার সাথে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’ এ সময় তিনি আরো বলেন, ‘‘এমআরটি পুলিশের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
মিরপুর ১০ নম্বর মেট্রোরেল স্টেশনে দেখা যায়, টিকিট বিক্রির কাজ পুনরায় শুরু হয়েছে। এক টিকিট মেশিন অপারেটর (টিএমও) জানান, ‘‘আমাদের এমডি স্যার এসেছিলেন এবং বলেছেন, যারা এই ঘটনার সাথে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তাই আমরা আবার আমাদের কাজে ফিরে এসেছি।
এদিকে, কর্মবিরতির ঘোষণার পরেও সোমবার সকালে মেট্রোরেল নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী চলতে শুরু করেছে। কিছু কাউন্টারে কর্মী উপস্থিত থাকলেও, তারা টিকিট বিক্রি কার্যক্রম থেকে বিরত ছিলেন, যার ফলে কিছু যাত্রী টিকিট ছাড়াই মেট্রোরেলে ভ্রমণ করেন। বেসরকারি চাকরিজীবী মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘‘আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশন থেকে মেট্রোরেলে উঠি, কিন্তু কাউন্টারে লোক থাকলেও তারা টিকিট বিক্রি করছেন না। তাই আমি ফার্মগেট স্টেশন পর্যন্ত টিকিট ছাড়াই চলে এসেছি।
রোববার সন্ধ্যায় ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের কর্মকর্তা-কর্মচারী ব্যানারে এক বিবৃতি প্রকাশ করা হয়। সেখানে বলা হয়, রোববার বিকেল সোয়া ৫টার দিকে দুজন নারী বিনা টিকিটে মেট্রোরেলে চড়েন এবং স্টেশনের সুইং গেইট দিয়ে পেইড জোন থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করেন। তারা পরিচয়পত্র দেখাতে অস্বীকৃতি জানান এবং কর্মীদের কাছে তাদের পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। এরপর মেট্রোরেল কর্মীরা তাদের কারণ জানতে চাইলে পুলিশের কর্মকর্তারা উত্তেজিত হয়ে তর্কে জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে পুলিশ সদস্যরা সুইং গেইট ব্যবহার করে চলে যান। মেট্রোরেল কর্মীরা আবারও তাদের কর্মকাণ্ডের কারণ জানতে চাইলে, এমআরটি পুলিশের সদস্যরা কর্মীদের ওপর শারীরিকভাবে হামলা চালান এবং বন্দুক তাক করে গুলি করার হুমকি দেন। পরিস্থিতি আরো উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে এবং অন্যান্য কর্মী ও যাত্রীরা আহত কর্মীকে উদ্ধার করেন।
এ ঘটনার পর মেট্রোরেল কর্মীরা ৬ দফা দাবি উত্থাপন করেন। দাবিগুলোর মধ্যে ছিল
ঘটনার মূল হোতা পুলিশের উপপরিদর্শক মাসুদকে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করা।পুলিশ পরিদর্শক রঞ্জিত ও কনস্টেবলদের শাস্তি প্রদান করা।অভিযুক্তদের প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে।এমআরটি পুলিশ বিলুপ্ত করে মেট্রোরেলের নিরাপত্তার জন্য একটি স্বতন্ত্র বাহিনী গঠন করা।স্টেশনে কর্মরত মেট্রোরেল কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।পরিচয়পত্র ও অনুমতি ছাড়া কোনো ব্যক্তিকে পেইড জোনে প্রবেশ করতে দেওয়া না হওয়া।আহত কর্মীর চিকিৎসার দায়িত্ব কর্তৃপক্ষকে নিতে হবে।
রোববার রাতে মেট্রোরেল কর্মীরা কর্মবিরতির ঘোষণা দেন এবং সতর্ক করে দেন, যদি তাদের দাবি পূর্ণ না হয় তবে তারা আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করবেন।