কোনো মহলের এজেন্ডা যেন সরকারের কর্মপরিকল্পনার অংশ না হয়: মির্জা ফখরুল

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন , অন্তর্বর্তী সরকারকে সর্বোচ্চ নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে হবে। সরকারের কর্মপরিকল্পনায় কোনো মহলের রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের এজেন্ডা যুক্ত হলে তা গণতন্ত্র ও দেশের মঙ্গলক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করবে, সেদিকেও সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে।

শনিবার বেলা সোয়া ১১টায় রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারম্যান পার্সনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জোর দিয়ে এ সবকথা বলেন মির্জা ফখরুল।

মহাসচিবের মতে, বর্তমান সরকারের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত ঐকমত্যের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সংস্কার সম্পন্ন করে দ্রুত একটি অবাধ ও নিরপক্ষ জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা করা। নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকারকে দায়িত্ব হস্তান্তর করে দেশের গণতান্ত্রিক আদর্শ ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত করার প্রত্যয় প্রকাশিত হয়।

সংবাদ সম্মেলনে মহাসচিব উল্লেখ করেন, কিছু অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা যারা ক্ষমতায় থেকে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে রাজনৈতিক দলের গঠন প্রক্রিয়ায় লিপ্ত তাদের কার্যকলাপ জনমনে সংশয়ের সৃষ্টি করছে। প্রশাসনকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করার লক্ষণ ও প্রমাণ ক্রমশ প্রকাশ পাচ্ছে, যা গণতন্ত্রের জন্য অনাকাঙ্ক্ষিত। তিনি বলেন, সংস্কার ও নির্বাচন একসাথে চলতে পারে; রাজনৈতিক দলের ঐকমত্যের ভিত্তিতে একটি “চার্টার অব রিফর্ম” তৈরি করে নির্বাচিত সরকার পরবর্তীতে তা বাস্তবায়ন করবে।

সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন ও সুপারিশপত্রে ফ্যাসিবাদ-পরবর্তী রাষ্ট্রসংস্কারের বিভিন্ন প্রস্তাব উঠে এসেছে। তবে বিএনপি মনে করছে, কমিশনের স্প্রেডশিটে উল্লেখিত প্রস্তাবের সংখ্যা ও মূল প্রতিবেদনে উল্লিখিত সংখ্যা মধ্যে অসামঞ্জস্য রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের স্প্রেডশিটে ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’ অপশন থাকলেও অতিগুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রস্তাব স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়নি।এই অসামঞ্জস্য রাজনৈতিক কর্মপরিকল্পনার পূর্বনির্ধারণের লক্ষণ হয়ে উঠতে পারে যা গণতন্ত্রের স্বার্থে প্রশ্নবিদ্ধ।

বিএনপির মহাসচিব আরও মন্তব্য করেন, সুপারিশগুলোর পর্যালোচনায় দেখা যাচ্ছে ভবিষ্যতে অনির্বাচিত ব্যক্তিদের রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে নিয়োগের অযৌক্তিক প্রচেষ্টা বিদ্যমান। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যরা মির্জা আব্বাস, সেলিনা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ, সালাহউদ্দিন আহমেদ প্রমুখ উপস্থিতিতে এই সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়গুলো স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়। নির্বাচনী প্রক্রিয়া ও সরকারের দায়িত্ব পালনে জনগণের প্রত্যাশা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে, ঐকমত্যের ভিত্তিতে সুসংগঠিত সংস্কারকে অবিলম্বে বাস্তবায়ন করার আহ্বান জানানো হয়।

All Categories