কিম জং উনের উত্তরসূরি হতে পারেন তার মেয়ে
রয়টার্স: উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন তার মেয়ের উত্তরসূরি হিসেবে অবস্থান সুসংহত করতে পদক্ষেপ নিচ্ছেন বলে মনে হচ্ছে। একই সঙ্গে নীতিনির্ধারণী বিষয়েও তিনি মতামত দিচ্ছেন—এমন লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। বৃহস্পতিবার দক্ষিণ কোরিয়ার আইনপ্রণেতারা এক গোয়েন্দা সংস্থার ব্রিফিংয়ের উদ্ধৃতি দিয়ে এই তথ্য জানিয়েছেন।
আইনপ্রণেতারা বলেন, দক্ষিণ কোরিয়ার ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স সার্ভিস (এনআইএস) নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবে কিম জু এই নামে পরিচিত ওই মেয়ে ক্ষমতাসীন ওয়ার্কার্স পার্টির আসন্ন বৈঠকে অংশ নেন কি না, সেখানে তাকে কীভাবে উপস্থাপন করা হয় এবং তিনি কোনো আনুষ্ঠানিক পদবি গ্রহণ করেন কি না।
এনআইএসের এক রুদ্ধদ্বার ব্রিফিং শেষে আইনপ্রণেতা লি সেওং-কুয়ুন সাংবাদিকদের বলেন, ‘অতীতে এনআইএস কিম জু এইকে ‘সম্ভাব্য উত্তরসূরি’ হিসেবে উল্লেখ করেছিল। তবে আজ ব্যবহৃত ভাষায় বলা হয়েছে, তিনি ‘অভ্যন্তরীণভাবে উত্তরসূরি হিসেবে কার্যত মনোনীত হওয়ার পর্যায়ে রয়েছেন।’
জু এই কিশোরী বয়সী বলে ধারণা করা হয়, উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে ক্রমেই বেশি গুরুত্ব পাচ্ছেন। তাকে বাবার সঙ্গে অস্ত্র কর্মসূচি পরিদর্শন এবং বিভিন্ন মাঠপর্যায়ের নির্দেশনা কার্যক্রমে দেখা যাচ্ছে।বিশ্লেষকদের মতে, তাকে দেশটির চতুর্থ প্রজন্মের নেতা হিসেবে প্রস্তুত করা হচ্ছে।
লি সেওং-কুয়ুন ও আরেক আইনপ্রণেতা পার্ক সান-ওন জানান, এনআইএস মনে করে জনসমক্ষে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে জু এইয়ের ভূমিকা ইঙ্গিত দেয় যে তিনি নীতিগত পরামর্শ দেওয়া শুরু করেছেন এবং তাকে কার্যত দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
উত্তর কোরিয়া ঘোষণা দিয়েছে, ওয়ার্কার্স পার্টি ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে নবম কংগ্রেসের উদ্বোধনী অধিবেশন আহ্বান করবে। বিশ্লেষকদের ধারণা, এ আয়োজনের মাধ্যমে আগামী কয়েক বছরের অর্থনীতি, পররাষ্ট্রনীতি ও প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত প্রধান নীতিগত লক্ষ্য তুলে ধরা হবে।
আইনপ্রণেতাদের উদ্ধৃতিতে বলা হয়, কিম জং উন একটি বড় আকারের সাবমেরিন নির্মাণে নির্দেশনা দিচ্ছেন, যা সম্ভবত ১০টি সাবমেরিন থেকে নিক্ষেপযোগ্য ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (এসএলবিএম) বহনে সক্ষম হবে।
প্রায় ৮ হাজার ৭০০ টন স্থানচ্যুতি সম্পন্ন এ জাহাজটি পারমাণবিক চুল্লিচালিত হওয়ার জন্য নকশা করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এটি আদৌ পারমাণবিক শক্তিচালিত হবে কি না কিংবা নকশা অনুযায়ী কার্যকর হবে কি না—তা এখনও স্পষ্ট নয় বলে গোয়েন্দা সংস্থার বিশ্লেষণের উদ্ধৃতি দিয়ে আইনপ্রণেতারা জানিয়েছেন।