খালেদা জিয়ার জন্য প্রস্তুত ‘ফিরোজা’, ১৭ বছর পর দেশে ফিরছেন জোবাইদা রহমান

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া আজ সোমবার (লন্ডন সময় বিকেল ৪টা ১০ মিনিটে, বাংলাদেশ সময় রাত ১০টা ১০ মিনিটে) লন্ডন থেকে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করছেন। কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির পাঠানো বিশেষ এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে তিনি ফিরছেন। বিএনপি সূত্র জানিয়েছে, তাঁর ঢাকায় আগমনের সব প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, খালেদা জিয়া মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

‘ফিরোজা’ প্রস্তুত

খালেদা জিয়ার গুলশান-২ এর বাসভবন 'ফিরোজা' তাঁর আগমনের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। পুরো বাড়ি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে, বাগানে ফুলের টব সাজানো হয়েছে। বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির সংযোগ পরীক্ষাও সম্পন্ন হয়েছে। বাসভবনের প্রবেশপথে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। সিএসএফ সদস্যরা পালাক্রমে নিরাপত্তায় থাকবেন।

বিমানবন্দর থেকে ‘ফিরোজা’ পর্যন্ত গাড়িবহর কাকলী রুট ধরে যাবে। এই রুটে হাজারো নেতাকর্মী দলীয় ও জাতীয় পতাকা হাতে শুভেচ্ছা জানাবেন। তবে যানজট এড়াতে দলের পক্ষ থেকে রাস্তায় না দাঁড়িয়ে ফুটপাথে অবস্থানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে মঙ্গলবার এসএসসি পরীক্ষা থাকায়, পরীক্ষার্থীদের যেন কোনো দুর্ভোগ না হয়—সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক করেছেন মহাসচিব ফখরুল।

তিনি বলেন, “পুলিশ ও ট্রাফিক বিভাগকে অনুরোধ করেছি, কেউ যেন রাস্তায় দাঁড়াতে না পারে, যেন পরীক্ষার্থীদের চলাচলে কোনো বিঘ্ন না ঘটে।”

বিএনপি সূত্র জানায়, পুরো রুটজুড়ে বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনকে ভাগ করে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

বিমানবন্দর থেকে লা মেরিডিয়ান পর্যন্ত থাকবে ঢাকা উত্তর সিটি ইউনিট

ছাত্রদল থাকবে লা মেরিডিয়ান থেকে খিলক্ষেত পর্যন্ত

যুবদল অবস্থান নেবে খিলক্ষেত থেকে র‍্যাডিসন পর্যন্ত

এরপর পর্যায়ক্রমে দায়িত্বে থাকবে দক্ষিণ সিটি ইউনিট, স্বেচ্ছাসেবক দল, কৃষক দল, শ্রমিক দল, ওলামা দল, তাঁতি দল, জাসাস, মৎস্যজীবী দল, মুক্তিযোদ্ধা দল এবং মহিলা দলসহ অন্যান্য সংগঠন।

দলের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, গাড়িবহরের সঙ্গে কেউ পায়ে হেঁটে বা মোটরসাইকেলে শোভাযাত্রায় অংশ নিতে পারবেন না। বিমানবন্দর বা বাসভবনে সাধারণ নেতাকর্মীদের প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকবে।

খালেদা জিয়ার সঙ্গে রয়েছেন তাঁর দুই পুত্রবধূ—তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমান এবং আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী সৈয়দা শামিলা রহমান। চিকিৎসক ও পরিবারের অন্য সদস্যরাও সফরে রয়েছেন। দোহার হামাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এক দফা যাত্রাবিরতি হবে।

ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন জানান, আলহামদুলিল্লাহ, ম্যাডাম আগের চেয়ে ভালো আছেন। আশা করছি, নির্ধারিত সময়েই দেশে পৌঁছানো যাবে।

২০০৮ সাল থেকে লন্ডনে থাকা ডা. জোবাইদা রহমান প্রায় ১৭ বছর পর দেশে ফিরছেন। ঢাকায় তিনি থাকবেন তাঁর বাবার ধানমন্ডির ‘মহবুব ভবনে’। বাড়িটিতে ইতিমধ্যে বাড়তি নিরাপত্তা ও আরামদায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করা হয়েছে। বিএনপির পক্ষ থেকে পুলিশের মহাপরিদর্শকের কাছে চিঠি দিয়ে সেখানে সশস্ত্র প্রহরা ও নিরাপত্তা সরঞ্জাম বসানোর অনুরোধ জানানো হয়েছে।

সাধারণ জনগণকে অনুরোধ করা হয়েছে যাত্রাপথে যানজট এড়াতে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ব্যবহার করতে।

All Categories