খাগড়াছড়িতে অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধ, জনজীবন স্থবির
খাগড়াছড়ির সিঙ্গিনালায় এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের প্রতিবাদ ও দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধ চলছে। জুম্ম ছাত্র-জনতা নামে একটি সংগঠনের ডাকে ডাকা এ অবরোধে পাহাড়ের জনজীবন কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।
সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ভোর থেকে অবরোধকারীরা জেলার বিভিন্ন স্থানে টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করে। এর ফলে খাগড়াছড়ি জেলা থেকে দূরপাল্লার যাত্রীবাহী ও পণ্যবাহী পরিবহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। একই সঙ্গে জেলার ভেতরও অভ্যন্তরীণ সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, অবরোধের তৃতীয় দিনে যে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে জেলার গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ, র্যাব ও সেনা সদস্য মোতায়েন রয়েছে। খাগড়াছড়ি জেলা শহরের বাজার ও আশপাশের দোকানপাট বন্ধ। প্রয়োজনীয় কাজে বের হওয়া মানুষদের তল্লাশি ও জিজ্ঞাসাবাদ করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
অবরোধের পাশাপাশি শনিবার দুপুর ২টা থেকে খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা ও পৌর এলাকায় অনির্দিষ্টকালের জন্য ১৪৪ ধারা জারি রয়েছে। একই সঙ্গে গুইমারা উপজেলাতেও এ ধারা বলবৎ আছে।
এর আগে রোববার (২৮ সেপ্টেম্বর) গুইমারায় বিক্ষোভ ও সহিংসতার সময় গুলিতে তিনজন স্থানীয় নাগরিক নিহত হন। আহত হন সেনা কর্মকর্তাসহ ১৩ সেনাসদস্য, ৩ পুলিশ সদস্য ও আরও কয়েকজন বেসামরিক নাগরিক। এরপর থেকে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
অবরোধ চলাকালে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি জানিয়ে খাগড়াছড়ি জেলার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার কাজী ওয়াজেদ আলী বলেন, ‘গুরুত্বপূর্ণ সব পয়েন্টে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। অবরোধকে ঘিরে যেকোনো নাশকতা ঠেকাতে পুলিশ সর্বোচ্চ তৎপর।’
গত ২৩ সেপ্টেম্বর রাতে প্রাইভেট পড়ে বাড়ি ফেরার পথে এক কিশোরী সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয় বলে অভিযোগ ওঠে। ওই দিন রাতেই অচেতন অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। এ ঘটনায় শয়ন শীল (১৯) নামে একজনকে আটক করেছে পুলিশ।