কালাকানুন’ প্রত্যাহারের দাবিতে সচিবালয়ে কর্মচারীদের বিক্ষোভ
‘সরকারি চাকরি (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’-এর খসড়া অনুমোদনের প্রতিবাদে সচিবালয়ের ভেতরে দ্বিতীয় দিনের মতো বিক্ষোভ করেছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। আজ রোববার (২৫ মে) বাংলাদেশ সচিবালয় কর্মকর্তা-কর্মচারী সংযুক্ত পরিষদের ব্যানারে অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচিতে শত শত কর্মকর্তা-কর্মচারী অংশ নেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সকাল থেকেই সচিবালয়ের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মচারীরা দপ্তরের কাজ ফেলে নিচে নেমে আসেন এবং মিছিলে যোগ দেন। মিছিল থেকে ‘অবৈধ কালো আইন মানব না’, ‘নিবর্তনমূলক আইন বাতিল করো’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়। বিক্ষোভকারীরা সচিবালয়ের ভেতরে একাধিক ভবনের সামনের পথ প্রদক্ষিণ করেন।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া কর্মকর্তারা বলেন, প্রস্তাবিত অধ্যাদেশে কয়েকটি ‘নিবর্তনমূলক ধারা’ রাখা হয়েছে, যার মাধ্যমে যেকোনো সময় অভিযোগের ভিত্তিতে সরকারি চাকরিজীবীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। এতে চাকরি হারানোর ঝুঁকিতে পড়বেন অনেকেই। তাঁরা দাবি করেন, এই বিধান সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং তা প্রশাসনে অনিশ্চয়তা ও ভীতির পরিবেশ তৈরি করবে।
বাংলাদেশ সচিবালয় কর্মকর্তা-কর্মচারী সংযুক্ত পরিষদের নেতারা বলেন, ২০১৮ সালের সরকারি চাকরি আইনে পরিবর্তন এনে যে খসড়া অধ্যাদেশ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, তা মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ন করে। তাঁরা অবিলম্বে এই খসড়া অধ্যাদেশ প্রত্যাহারের দাবি জানান এবং বলেন, দাবি না মানা হলে আন্দোলনের পরিসর আরও বিস্তৃত হবে।
গত বৃহস্পতিবার অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে ‘সরকারি চাকরি (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’-এর খসড়া অনুমোদন দেওয়া হয়। এরপর থেকেই সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে এই নিয়ে তীব্র ক্ষোভ দেখা দেয়।