জয়–পুতুল–রাদওয়ানকে সামনে রেখে ‘রাহুল–প্রিয়াঙ্কা মডেলে’ নেতৃত্ব পুনর্গঠনের পথে আ.লীগ

গত বছরের জুলাই–আগস্টে ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হয়ে দেশ ত্যাগ করেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। এরপর থেকে তিনি ভারতের মাটিতেই রয়েছেন কঠোর নিরাপত্তাবলয়ের মধ্যে। সেখান থেকেই দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সীমিত যোগাযোগ করছেন তিনি।

শেখ হাসিনা প্রায় সাড়ে চার দশক ধরে আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। ১৯৮১ সালের ১৭ মে নির্বাসন ভেঙে দেশে ফেরার পর থেকেই তার নেতৃত্ব শুরু। দীর্ঘ এই সময়ের মধ্যে উত্তরাধিকার প্রসঙ্গে তিনি কখনোই প্রকাশ্যে কিছু বলেননি। ফলে তার হঠাৎ প্রস্থান দলের ভেতরে তীব্র নেতৃত্ব–সংকট তৈরি করেছে।

এ অবস্থায় ছেলেমেয়ে ও ভাতিজাকে সামনে এনে উত্তরাধিকারের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছেন শেখ হাসিনা। ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল এবং বোন শেখ রেহানার ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববিকে ধীরে ধীরে দলের নেতৃত্বে আনার প্রস্তুতি চলছে।

ভারতের প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসে রাহুল–প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে সামনে রেখে নেতৃত্ব সাজানোর মডেলটি অনুসরণ করছেন শেখ হাসিনা—বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে এমন দাবি করা হয়েছে।

দুই মাস আগেও সায়মা ওয়াজেদ ছিলেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ–পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক। কিন্তু সংস্থাটি তাকে অনির্দিষ্টকালের ছুটিতে পাঠানোর পর তিনি পুরোপুরি রাজনীতিতে সক্রিয় হয়েছেন। দিল্লিতে মায়ের পাশে থেকে ভাষণের খসড়া তৈরি, কর্মসূচির ক্যালেন্ডার নির্ধারণ, বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠক—এসব ক্ষেত্রেই সরাসরি ভূমিকা রাখছেন তিনি। গত দুই মাসে এরকম কয়েকটি বৈঠকও করেছেন তিনি।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করা জয় আওয়ামী লীগের প্রধান মুখপাত্র হিসেবে কাজ করছেন। মার্কিন নাগরিক হয়েও তিনি নিয়মিত বিদেশি গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিয়ে দলের অবস্থান তুলে ধরছেন। বিদেশে দলের পক্ষে বয়ান গঠনের কাজও তার নেতৃত্বে হচ্ছে।

শেখ হাসিনার এ তথাকথিত ‘সাকসেসন প্ল্যান’ নিয়ে প্রকাশ্যে কেউ মুখ খুলতে চাননি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক নেতা এ তথ্য নিশ্চিত করলেও বলেছেন, বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর।

তবে কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আরাফাত দাবি করেছেন, এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা হয়নি। তার ভাষায়, “আমাদের এখন প্রধান লক্ষ্য বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করা। কে কী পদে থাকবেন, সেটা এখন ভাবার সময় নয়।

দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ভারতে অবস্থান করলেও গত দশ মাসে শেখ হাসিনার সঙ্গে তার কোনো সাক্ষাৎ হয়নি। বরং কলকাতায় থাকা তিন নেতা—সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক সাংসদ আ. ফ. ম. বাহাউদ্দিন নাসিম ও সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানকের ওপরই বেশি ভরসা রাখছেন শেখ হাসিনা। সায়মা ওয়াজেদ তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করছেন বলে দলের নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে।

৭৮ বছরে পা দেওয়া শেখ হাসিনা এখন বয়স ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে উত্তরাধিকার প্রসঙ্গে স্পষ্ট সিদ্ধান্তের দিকে ঝুঁকছেন। দিল্লি, ভার্জিনিয়া ও কলকাতাকে ঘিরেই বর্তমানে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম চলছে। তবে দলের নিয়ন্ত্রণ থাকছে যথারীতি ‘ফার্স্ট ফ্যামিলি’র হাতেই।

All Categories