জোট করলেও ভোট নিজ দলের প্রতীকে — আরপিও সংশোধনে নতুন বিধান

আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কোনও জোটবদ্ধ রাজনৈতিক দল অন্য দলের প্রতীক ব্যবহার করতে পারবে না। জোট করলেও প্রত্যেক দলকে নিজস্ব নির্বাচনী প্রতীকে ভোটে অংশ নিতে হবে—এমন স্পষ্ট বিধান রেখে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ২০২৫ (আরপিও) জারি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

সোমবার (৪ নভেম্বর) আইন মন্ত্রণালয়ের গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে সংশোধিত অধ্যাদেশটি কার্যকর হয়। এর মাধ্যমে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আরপিওসহ নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট সব আইনি সংস্কার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলো বলে জানিয়েছে ইসি।

গত ২৩ অক্টোবর উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে আরপিও সংশোধনের খসড়ায় নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়।

জোটের প্রতীক ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে বিএনপি আপত্তি তুললেও জামায়াত ও এনসিপি সংশোধন বহাল রাখার প্রস্তাব দিয়েছিল।

শেষ পর্যন্ত জোটভুক্ত দলগুলোর নিজ নিজ প্রতীকে ভোটে অংশগ্রহণের বাধ্যবাধকতা থেকে ইসি সরে আসেনি।

আরপিও’র আর্টিকেল ২০ (প্রতীক বরাদ্দ) অনুচ্ছেদে নতুন বিধান যোগ করা হয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে— দুই বা ততোধিক নিবন্ধিত দল যৌথভাবে প্রার্থী দিতে চাইলে, প্রার্থী যে দলের অন্তর্ভুক্ত, সেই দলের প্রতীকই ব্যবহার করতে হবে। প্রয়োজনে সেই প্রতীকটি জোটভুক্ত দলগুলোর জন্য ‘যৌথভাবে ব্যবহারের উপযোগী’ হিসেবে বরাদ্দ দিতে পারবে ইসি।এই আবেদন করতে হবে তফসিল ঘোষণার তিন দিনের মধ্যে, আরপিও’র আর্টিকেল ১১-এর অধীনে।

অর্থাৎ, বড় দলের প্রতীকে জোটের প্রার্থীকে ভোট করার সুযোগ থাকছে না; বরং প্রত্যেক দলের নিজস্ব পরিচয় (প্রতীক) বজায় রাখার বাধ্যবাধকতা থাকছে নির্বাচনী মাঠে।

ইসি জানায়, আরপিও সংশোধনের মধ্য দিয়ে নির্বাচন আইন সংস্কারের কাজ সম্পূর্ণ হলো। ইতোমধ্যে যেসব আইন ও নীতিমালা সংশোধন বা প্রণয়ন হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে— ভোটার তালিকা আইন, নির্বাচন কর্মকর্তা বিশেষ বিধান আইন, নির্বাচন কমিশন সচিবালয় আইন, ভোটকেন্দ্র নীতিমালা, দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষক নীতিমালা, সাংবাদিক নীতিমালা, সংশোধিত আরপিও অনুযায়ী, এখন দ্রুত দল ও প্রার্থীদের আচরণবিধি জারি করবে নির্বাচন কমিশন।

বিশ্লেষকদের মতে, এই সংশোধন রাজনৈতিক জোটের কাঠামো ও নির্বাচনী কৌশলে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে। বিশেষ করে ছোট দলগুলোর প্রতীকের ব্যবহার বাধ্যতামূলক হওয়ায় তাদের দৃশ্যমানতা বাড়লেও, বড় দলগুলোর জন্য সমন্বয়ের চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে।

All Categories