জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিকত্ব সীমিতের বিলে স্বাক্ষর করলেন ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ সীমিত করতে নতুন নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার স্বাক্ষরিত এ আদেশের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের নীতিতে পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নিল তাঁর প্রশাসন।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ১৪তম সংশোধনী অনুযায়ী, দেশটির ভূখণ্ড, জলসীমা বা আকাশসীমার মধ্যে জন্ম নেওয়া প্রায় সব শিশুই জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিকত্ব লাভ করে। ১৮৬৮ সালে গৃহযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে এ সংশোধনী কার্যকর করা হয়।
১৪তম সংশোধনীর ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট যুক্তরাষ্ট্রের দাসপ্রথা বিলোপের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। অষ্টাদশ ও উনবিংশ শতকে আফ্রিকা থেকে আনা অসংখ্য ক্রীতদাসকে কৃষি ও অন্যান্য শ্রমনির্ভর কাজে ব্যবহার করা হতো। ১৮৬১ থেকে ১৮৬৫ সাল পর্যন্ত গৃহযুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্রে দাসপ্রথা বিলোপে ১৩তম সংশোধনী এবং সাবেক দাস ও তাঁদের সন্তানদের নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করতে ১৪তম সংশোধনী গ্রহণ করা হয়। এই সংশোধনীর মাধ্যমেই জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের সাংবিধানিক স্বীকৃতি প্রতিষ্ঠিত হয়।
ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে অনেক দম্পতি শুধু সন্তানের জন্মের মাধ্যমে মার্কিন নাগরিকত্ব নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ করছেন। প্রশাসনের ভাষায়, এই প্রবণতাকে বলা হয় ‘বার্থ ট্যুরিজম’।
মার্কিন প্রশাসনের অভিযোগ, এ ধরনের ভ্রমণের উদ্দেশ্য মূলত যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দিয়ে তাকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মার্কিন নাগরিকত্ব পাইয়ে দেওয়া। নতুন নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে এ ধরনের সুযোগ সীমিত করার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব ১৪তম সংশোধনীর মাধ্যমে সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃত হওয়ায় ট্রাম্প প্রশাসনের এ সিদ্ধান্ত আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে বলে ধারণা করছেন সংবিধান বিশেষজ্ঞরা। নির্বাহী আদেশের বাস্তবায়ন এবং এর সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে আদালতে আইনি লড়াই হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।