জনগণ করুণার পাত্র নয়, সরকারের মান-অভিমানের কোনো সুযোগ নেই: তারেক রহমান
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, জনগণ কোনো সরকারের করুণার পাত্র নয়। সরকারের মান-অভিমান বা রাগ-বিরাগের কোনো সুযোগ নেই।
আজ রোববার রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এসব কথা বলেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, স্বৈরাচারী শাসনের সময় গণতান্ত্রিক দলগুলো নানা দমন-পীড়ন ও ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছে। এনপিপিও সেই অভিজ্ঞতার বাইরে নয়। অতীতের মতো যেন আর কখনো ফ্যাসিবাদ ফিরে না আসে, সেটিই হওয়া উচিত সব রাজনৈতিক দলের লক্ষ্য।
তারেক রহমান বলেন, রাষ্ট্র, সরকার ও রাজনীতির গুণগত পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজন সময়োপযোগী সংস্কার। এ ধরনের সংস্কারকে কেউই ‘অল্প বা বেশি’ হিসেবে বিবেচনা করতে পারে না। এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া।
তিনি মনে করেন, স্বৈরাচার বা ফ্যাসিবাদ ঠেকাতে হলে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে জনগণের রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন। তাঁর ভাষায়, যখন জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা সরকার গঠন করেন, তখন সেই সরকার জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য হন।
তারেক রহমান বলেন, সরকারের চরিত্র যাই হোক না কেন—নির্বাচিত, অন্তর্বর্তী কিংবা তত্ত্বাবধায়ক—তাদের জবাবদিহির আওতায় আনতে না পারলে তারা নিজেদের অজান্তেই স্বৈরাচারী হয়ে ওঠে।
তিনি বলেন, সাধারণ নাগরিকদের উচিত সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করা এবং নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য সোচ্চার থাকা।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, এই অন্তর্বর্তী সরকারের নৈতিক বা রাজনৈতিক বৈধতার সংকট নেই। তবে এটি জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক নয়। ফলে সরকারের পরিকল্পনা জনগণের সামনে স্পষ্ট থাকা উচিত।
তিনি বলেন, জনগণকে অন্ধকারে রেখে কিংবা রাজনৈতিক দলগুলোকে অনিশ্চয়তায় রেখে কোনো পরিকল্পনা কখনোই সফল বা টেকসই হয় না।
চলতি অর্থবছরের বাজেট প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারকে নিয়মমাফিক বাজেট ঘোষণা করতে হবে। যদিও তারা সরাসরি জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয়, তবু এটি একটি সাংবিধানিক দায়িত্ব।
তিনি বলেন, বাজেট বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ঘাটতি বরাবরই প্রধান বাধা। এমন বাস্তবতায় হঠাৎ এনবিআরে সংস্কারের চাপ দিয়ে রাজস্ব আদায়ে অচলাবস্থা তৈরি করা মোটেই অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক নয়।
তারেক রহমান বলেন, বর্তমানে স্থিতিশীল গণতান্ত্রিক সরকার না থাকায় দেশি-বিদেশি বিনিয়োগে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতায় জনগণের ভেতর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
তিনি হুঁশিয়ার করে বলেন, যদি জবাবদিহিমূলক সরকার প্রতিষ্ঠায় বিলম্ব হয়, তবে পরাজিত স্বৈরাচার আবার মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার সুযোগ পাবে।
তারেক রহমান জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধানের সঙ্গে দেখা করে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন চেয়েছে। তিনি বলেন, আমরা যারা রাজপথে আন্দোলন করেছি, তারা প্রশাসনিক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংস্কারে সরকারের প্রতি সমর্থন দিয়ে আসছি।
শেষে তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, দেশবাসী একটি অবাধ, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক জাতীয় নির্বাচন দেখতে পারবে—এই প্রত্যাশা নিয়েই এনপিপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বক্তব্য রাখছি।