জিএম কাদের ও তার স্ত্রীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা
সাবেক সংসদ সদস্য ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ (জি এম) কাদের এবং তাঁর স্ত্রী শেরীফা কাদেরের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকার মহানগর দায়রা জজ ও সিনিয়র বিশেষ জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক মো. ইব্রাহিম মিয়া এ আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা আকতারুল ইসলাম।
দুদকের আবেদনে বলা হয়, জি এম কাদের ও তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে অনুসন্ধান চলছে। তাঁদের নামে দেশে–বিদেশে স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। গোপন সূত্রে জানা গেছে, তাঁরা বিদেশে পালিয়ে গিয়ে সম্পদ হস্তান্তরের চেষ্টা করতে পারেন। এতে অনুসন্ধান কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকায় তাঁদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চাওয়া হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন দিতে ১৮ কোটি টাকার বেশি ঘুষ নেওয়া হয়, যার মূল সুবিধাভোগী ছিলেন জি এম কাদের। অর্থ পরিশোধ না করায় অধ্যাপক মাসুদা এম রশীদ চৌধুরীকে দলীয় পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয় এবং তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন জি এম কাদেরের স্ত্রী শেরীফা কাদের।
দুদক দাবি করেছে, পদ বাণিজ্য ও মনোনয়ন বাণিজ্যের মাধ্যমে বিপুল অর্থ সংগ্রহ করেন জি এম কাদের, যা পরে বিদেশে পাচার করা হয়। জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটি যেখানে ৩০১ সদস্য থাকার কথা, সেখানে বর্তমানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে ৬০০ থেকে ৬৫০ জনকে। এটিকে পদ বাণিজ্যের প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করেছে দুদক।
২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনে দাখিল করা হলফনামা অনুযায়ী, জি এম কাদেরের নামে নগদ ৪৯ লাখ ৮৮ হাজার টাকা, ব্যাংকে ৩৫ লাখ ৯৫ হাজার টাকা এবং প্রায় ৮৫ লাখ টাকার একটি জিপ গাড়ি রয়েছে। অন্যদিকে শেরীফা কাদেরের নামে নগদ ৫৯ লাখ টাকা, ব্যাংকে ২৮ লাখ টাকার বেশি এবং ৮০ লাখ টাকার একটি জিপ গাড়ি রয়েছে। এ ছাড়া ঢাকায় ফ্ল্যাট ও লালমনিরহাটে জমির মালিকানা রয়েছে তাঁর।
দুদকের মতে, এসব অভিযোগের সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থেই তাঁদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছিল।
১৯৯৬ সালে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন জি এম কাদের। তিনি জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ছিলেন। ২০১৪ সালে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এবং পরে বাণিজ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন তিনি।