জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৬তম জন্মজয়ন্তী আজ
বাংলাদেশের জাতীয় কবি ও বাংলা সাহিত্যের এক অবিসংবাদিত কণ্ঠস্বর কাজী নজরুল ইসলামের ১২৬তম জন্মজয়ন্তী আজ (১১ জ্যৈষ্ঠ)। বিদ্রোহ, প্রেম, মানবতা ও সাম্যবাদের বাণী ছড়িয়ে যাওয়া এই কবি জন্মগ্রহণ করেছিলেন ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ, পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে।
জন্মজয়ন্তীর প্রাক্কালে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস এক বাণীতে নজরুলের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।
বাণীতে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, কাজী নজরুল ইসলাম বাংলা সাহিত্যের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। তিনি এমন এক সময়ে জন্মগ্রহণ করেছিলেন যখন এই উপমহাদেশ ছিল পরাধীনতার শৃঙ্খলে আবদ্ধ। সেই সময়েই তিনি সাহিত্যকে বেছে নিয়েছিলেন প্রতিবাদের ভাষা হিসেবে।
ব্রিটিশ শাসনামলে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে নজরুলের কারাবরণ এবং তার কালজয়ী কবিতা ‘রাজবন্দীর জবানবন্দী’-এর কথা উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এই মননশীল প্রতিবাদী শক্তিই তাঁকে বিদ্রোহী কবির উপাধি দেয়।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে সরকার গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে কাজী নজরুল ইসলামকে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় কবির স্বীকৃতি দেয়। যদিও দীর্ঘদিন ধরেই এই সম্মান তিনি মানুষের হৃদয়ে বহন করে আসছেন।
দরিদ্র পরিবারের সন্তান নজরুলের ডাকনাম ছিল ‘দুখু মিয়া’। দুঃখ-দারিদ্র্য ছিল তার জীবনের প্রথম পাঠ। জীবিকার সন্ধানে শিশুকালেই মসজিদের মুয়াজ্জিন, লেটো দলের গায়ক ও রন্ধনশিল্পীর কাজ করেছেন। সেখান থেকেই জন্ম নেয় তার কাব্যপ্রতিভা।
নজরুল বাংলা সাহিত্যে রবীন্দ্র-উত্তর যুগের আধুনিকতার পথিকৃৎ। তাঁর রচনায় সমানভাবে উচ্চারিত হয়েছে সাম্প্রদায়িকতা, সামন্তবাদ, সাম্রাজ্যবাদ ও উপনিবেশবাদের বিরুদ্ধে স্পষ্ট ও সাহসী ভাষা।
তিনি শুধু বিদ্রোহের কবি নন, প্রেম ও সংগীতেরও কবি। অনন্ত প্রেরণার উৎস নজরুলের মধ্যে এক অপূর্ব সাম্য ছিল কোমলতা ও কঠোরতার, প্রেম ও প্রতিবাদের, বেদনা ও উল্লাসের।
জাতীয় কবির জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে আজ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও কবির স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের কর্মসূচি পালিত হচ্ছে।