জান্নাতের টিকিটধারীদের বাসস্টেশন কোথায়, জানতে হবে: সালাহ উদ্দিন
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহ উদ্দিন আহমেদ বলেছেন, ধর্মের নামে প্রতিশ্রুতি দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। দুনিয়ায় মানুষের জীবন–জীবিকার বাস্তব পরিকল্পনা না থাকায় এসব শক্তিকে ‘ধর্ম ব্যবসায়ী’ আখ্যা দেন তিনি। তার ভাষায়, তারা শুধু ট্যাবলেট বিক্রি করছে। কিন্তু তাদের বাসস্টেশন কোথায়, তা জানতে হবে। যে ভোটাধিকার রক্ষায় অতীতে এত রক্ত ঝরেছে, সেটির ওপরই আজ ষড়যন্ত্র চলছে। আমরা তা হতে দেব না।
সোমবার (৮ ডিসেম্বর) রাজধানীর খামারবাড়ির কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে ‘দেশ গড়ার পরিকল্পনা’ শীর্ষক ৭ দিনব্যাপী মতবিনিময় সভার দ্বিতীয় দিনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। এতে ঢাকার বিভিন্ন ইউনিটের ছাত্রদল নেতারা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। সঞ্চালনায় ছিলেন যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল। বিকালে লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের।
ছাত্রদল নেতাকর্মীদের উদ্দেশে সালাহ উদ্দিন বলেন, ‘আমরা জনগণের ভোট চাই। কিন্তু শুধু ভোট চেয়ে লাভ নেই জনগণকে কী দেব, তার প্রস্তুতি থাকতে হবে। আমরা তো আর ধর্মের ট্যাবলেট বিক্রি করতে পারি না।’ তিনি বলেন, তরুণরাই ভবিষ্যতে রাষ্ট্র পরিচালনা করবে; তাই তাদের অর্জিত জ্ঞান তৃণমূলে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান।
বিএনপির অতীত কর্মকাণ্ড ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান গণশিক্ষা কার্যক্রম চালু করেছিলেন নিরক্ষরতা দূর করতে। পরে এরশাদ তা বন্ধ করেন। ‘যতদিন পুরোপুরি সাক্ষরতা অর্জন না হচ্ছে, ততদিন চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে,’ বলেন তিনি।
খালেদা জিয়ার শিক্ষা উদ্যোগের প্রসঙ্গ টেনে তিনি জানান, খাদ্যের বিনিময়ে শিক্ষা কর্মসূচি মা–বাবার মধ্যে ব্যাপক পরিবর্তন এনেছিল। ‘মেয়েদের জন্য বিনামূল্যে শিক্ষা চালু করাও ছিল যুগান্তকারী পদক্ষেপ। ক্ষমতায় গেলে আরও নতুন প্রকল্প নেওয়া হবে,’ বলেন তিনি।
গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে বিএনপির ভূমিকার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালে ‘মৃতপ্রায় গণতন্ত্র’ পুনরুদ্ধার করেছিলেন জিয়াউর রহমান। পরে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়। তার দাবি, শেখ হাসিনা ‘ফ্যাসিবাদী কায়দায়’ তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল করেছেন। ‘এসব বিষয় জনগণকে বুঝাতে হবে,’ বলেন সালাহ উদ্দিন।
তিনি বলেন, শুধু মিছিল করে নয় জ্ঞান ও সক্ষমতায় অন্যদের ছাড়িয়ে যেতে হবে। সামাজিক মাধ্যমে অপপ্রচার মোকাবিলায় তথ্যভিত্তিক জবাব দেওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।
ছাত্রদল নেতাদের উদ্দেশে তিনি নির্দেশনা দেন, বিএনপির ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি কার্ড, স্বাস্থ্য কার্ডসহ জনকল্যাণমূলক পরিকল্পনাগুলো সহজভাবে ব্যাখ্যা করে তৃণমূলে ছড়িয়ে দিতে হবে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নিপুণ রায় চৌধুরী, ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আমিনুল হক, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন ও বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খানসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।
গত রবিবার সপ্তাহব্যাপী এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিকালে সমাপনী বক্তব্য দেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ১৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের তৃণমূল নেতারাও এই কর্মসূচিতে অংশ নেবেন।