জামায়াত-শিবির এবং ইসকন একই ধরনের দল: শ্রীমান সখা

ইসকনের  প্রবীণ নেতা শ্রীমান সখা মধুমঙ্গল দাসের এক উগ্রবাদী মন্তব্যে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। তিনি বলেছেন, ‘জামায়াতে ইসলামী ও ইসকন একই ধরনের দল। দুই দলই চায় মেধাবী ও ধর্মনিষ্ঠ ব্যক্তিরা রাষ্ট্র পরিচালনার নায়ক হোক।’

সম্প্রতি সিলেটের ওসমানীনগরে জামায়াত আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। তাঁর এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে। রাজনৈতিক অঙ্গনেও সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

বিতর্কিত ধর্মীয় নেতা সখা মধুমঙ্গল দাস এর আগে ইসকন থেকে বহিষ্কৃত হন রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড ও বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা অসম্মানের অভিযোগে। একসময় তিনি হিন্দু ধর্মীয় সংগঠনের সন্ন্যাসী হিসেবে সক্রিয় ছিলেন। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তাঁর বক্তব্যে রাজনৈতিক ও উগ্র মতাদর্শের প্রবণতা বেড়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, তাঁর এই মন্তব্যে ধর্মীয় উগ্রবাদী সংগঠনগুলোর চিন্তা ও কর্মকৌশলে অদ্ভুত এক সাদৃশ্যের ইঙ্গিত পাওয়া যায়। তারা বলেন, জামায়াতে ইসলামী ধর্মকে ব্যবহার করে রাজনৈতিক ক্ষমতা অর্জনের চেষ্টা করে, আর ইসকন ধর্মীয় প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে একই ধরনের সামাজিক কাঠামো গড়ে তুলতে চায়। দুই দলের লক্ষ্যই ধর্মকে কেন্দ্র করে সমাজে আধিপত্য প্রতিষ্ঠা।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, জামায়াত ও ইসকনের মধ্যে কোনো মিল থাকলে তা তাদের অন্ধ আনুগত্য ও উগ্র আদর্শে, জনগণের কল্যাণে নয়। এটি দুই চরমপন্থী ধারার মধ্যে এক মানসিক সেতুবন্ধন তৈরির প্রচেষ্টা, যা সমাজে বিভাজন সৃষ্টি করতে পারে।

তারা বলেন, বাংলাদেশ একটি ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র—এখানে ধর্মের নামে বিভাজন বা শ্রেষ্ঠত্বের দাবি সংবিধানবিরোধী এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পরিপন্থী। এমন মন্তব্য উগ্র চিন্তাধারার বহিঃপ্রকাশ, যা তরুণ প্রজন্মকে বিভ্রান্ত করার আশঙ্কা তৈরি করে।

মানবাধিকার কর্মী ও সমাজ বিশ্লেষকরাও বলেছেন, জামায়াত ইসলামী দীর্ঘদিন ধরে ধর্মকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে আসছে। অন্যদিকে ইসকন, বিশেষ করে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে, বহুদিন ধরে ধর্মীয় আধিপত্য ও “ধার্মিক নেতৃত্বের” দাবি তুলে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। দুই সংগঠনের আদর্শেই রয়েছে ধর্মীয় আধিপত্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা, সমাজে বিভাজন সৃষ্টি এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে অস্বীকারের প্রবণতা।

All Categories