ইউক্রেনকে নতুন করে সামরিক সহায়তা দেয়ার সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের
ইউক্রেনকে পুনরায় সামরিক সহায়তা এবং গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়ের জন্য রাজি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। রাশিয়ার সঙ্গে ৩০ দিনের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে ইউক্রেন সম্মত হওয়ার পরেই ওয়াশিংটন এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। কিয়েভ ও ওয়াশিংটনের মধ্যে আলোচনার পর গত মঙ্গলবার একটি যৌথ বিবৃতি দেওয়া হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন আমরা এখন রাশিয়ার সঙ্গে এই প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা শুরু করব এবং বল এখন মস্কোর কোর্টে।তিনি আরও জানান আমাদের প্রত্যাশা রাশিয়া এই প্রস্তাবে হ্যাঁ বলবে এবং শিগগিরই তাদের প্রতিক্রিয়া জানাবে যাতে আমরা পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারি। দ্বিতীয় ধাপেই মূল আলোচনা শুরু হবে।
রুবিও এই প্রস্তাবের মাধ্যমে দ্রুত একটি শান্তি চুক্তি করতে চান কারণ তিনি মনে করেন যত দিন যুদ্ধ চলবে ততদিন মানুষ মারা যাবে এবং যুদ্ধবিষয়ক ক্ষয়ক্ষতি অব্যাহত থাকবে। তিনি বলেন যতদিন যুদ্ধ চলবে ততদিন বোমা ফেলা হবে এবং উভয় পক্ষের জনগণ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
২০১৪ সালে রাশিয়া ক্রিমিয়া দখল করার পর ২০২২ সালে পূর্ণমাত্রায় ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরু করে। বর্তমানে ক্রিমিয়া উপদ্বীপসহ ইউক্রেনের এক-পঞ্চমাংশ এলাকা রাশিয়ার দখলে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র আশা করছে দ্রুত রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে শান্তি আলোচনা শুরু হবে।
তবে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন তিনি শান্তি আলোচনা করতে রাজি আছেন তবে তার কূটনীতিকরা বারবার বলেছেন যে রাশিয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তির বিপক্ষে। রাশিয়া একটি শান্তিচুক্তি চায় যেখানে তাদের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা সুরক্ষিত থাকবে। তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন ইউক্রেনের যে চারটি অঞ্চল রাশিয়া নিয়ন্ত্রণ করছে সেখান থেকে ইউক্রেনকে অবশ্যই সরে যেতে হবে।
এদিকে রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গতকাল জানিয়েছে তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগের সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছে না। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সৌদি আরবে থাকলেও তিনি আলোচনা অনুষ্ঠানে অংশ নেননি। তবে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবকে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন যত দ্রুত রাশিয়া রাজি হবে তত দ্রুত এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিও জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র একাধিক মাধ্যমে রাশিয়ার কাছে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব উপস্থাপন করবে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইক ওয়ালৎজ রাশিয়ার জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক করবেন এবং ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ মস্কো সফরে গিয়ে রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে আলোচনা করবেন।
গতকাল সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন আমি আশা করি আগামী কয়েক দিনের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চূড়ান্ত হবে।তিনি আরও বলেন এ সপ্তাহে পুতিনের সঙ্গে আলোচনায় বসার পরিকল্পনা রয়েছে।