ইসলামী দলগুলোকে নিয়ে রাস্তায় জামায়াত, চাপে বিএনপি

জামায়াতে ইসলামীসহ ইসলামী দলগুলো একসময় বিএনপির ঘনিষ্ঠ মিত্র ছিল। কিন্তু জুলাই অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর পর দেশের রাজনৈতিক সমীকরণ পাল্টে গেছে। এখন বিএনপি নিজেকে মধ্যপন্থী দল হিসেবে তুলে ধরতে ইসলামী দলগুলো থেকে দূরত্ব বজায় রাখছে। অন্যদিকে জামায়াত প্রতিপক্ষ শক্তি হয়ে ইসলামী দলগুলোকে এক ছাতার নিচে আনতে তৎপর হয়েছে।

ডাকসু ও জাকসু নির্বাচনে ছাত্রদলের ভরাডুবি এবং ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাফল্যের পর জামায়াত আরও চনমনে হয়ে উঠেছে। এবার তারা ইসলামী দলগুলোকে নিয়ে যুগপৎ আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করতে যাচ্ছে। এতে বিএনপির ভেতরে সন্দেহ তৈরি হয়েছে—এটা কি নির্বাচনের আগে জোট গঠনের প্রস্তুতি, নাকি নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়ার কৌশল?

ঐতিহাসিকভাবে বিএনপি ছিল ডানপন্থী দলগুলোর ভরসাস্থল। ১৯৯৬ সালের পর বিএনপি যে চারদলীয় জোট গড়ে তোলে, তাতে জামায়াত ও ইসলামী ঐক্যজোট দুটোই ছিল। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ফেরার পর কিছু ইসলামী দল ভাঙলেও অধিকাংশ বিএনপির সঙ্গে রয়ে যায়। ২০১৮ সালের নির্বাচনে বিএনপি জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গড়লেও পুরোনো মিত্রদের ধানের শীষ প্রতীকে ভোট করিয়েছে। তবে জুলাই অভ্যুত্থানের পর জামায়াতের সঙ্গে বিএনপির মতভেদ এখন প্রকাশ্য, বিশেষ করে মুক্তিযুদ্ধের প্রশ্নে।

বিবিসি বাংলার খবরে বলা হয়েছে, জুলাই সনদের বাস্তবায়নসহ পাঁচ দফা দাবিতে জামায়াত, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস যুগপৎ আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। ১৮ সেপ্টেম্বর ঢাকায় বিক্ষোভ মিছিলের মাধ্যমে কর্মসূচি শুরু হবে। ১৯ সেপ্টেম্বর বিভাগীয় শহরে এবং ২৬ সেপ্টেম্বর জেলা-উপজেলায় বিক্ষোভ হবে। সোমবার জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলন যৌথভাবে সংবাদ সম্মেলন করে অভিন্ন কর্মসূচি ঘোষণার কথা জানিয়েছে।

জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সংস্কার ও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ছাড়া নির্বাচন হলে পুরোনো স্বৈরাচারী ব্যবস্থা ফিরে আসবে। তাঁদের দাবির মধ্যে রয়েছে জুলাই সনদের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন, আওয়ামী লীগ ও তাদের সহযোগী দলগুলোর রাজনীতি নিষিদ্ধ করা, জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার দৃশ্যমান করা, আনুপাতিক হারে ভোটের ব্যবস্থা এবং জাতীয় নির্বাচনে লেভেল প্লেইং ফিল্ড নিশ্চিত করা।

এই কর্মসূচিতে জামায়াতের পাশাপাশি আরও কয়েকটি দল যুক্ত হতে পারে। এর মধ্যে এবি পার্টি, গণঅধিকার পরিষদ ও অভ্যুত্থানকারী তরুণদের গড়া এনসিপি রয়েছে। এনসিপি সংসদ নির্বাচনের আগে গণপরিষদ নির্বাচন ও জুলাই সনদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি দাবি করছে।

অন্যদিকে বিএনপি বলছে, সংস্কার ও সনদের প্রশ্নে যে সিদ্ধান্ত হবে, তা নির্বাচিত সংসদই নেবে। কিন্তু জামায়াতসহ ইসলামী দলগুলো চাইছে, আগে সংস্কার, পরে নির্বাচন। এ নিয়ে দুই পক্ষের অবস্থান একেবারেই ভিন্ন।

অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্যোগে সংস্কার নিয়ে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে আলোচনা চলার মধ্যেই ইসলামী দলগুলোর রাজপথের কর্মসূচি বিএনপিকে অস্বস্তিতে ফেলেছে। বিএনপির একাধিক নেতা বিবিসি বাংলাকে বলেন, এতে নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে।

 

রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে জামায়াত ইসলামী দলগুলোকে নিয়ে সম্ভাব্য জোটের রূপরেখা তৈরি করছে। তবে আন্দোলন যে নির্বাচনী জোটে গড়াবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তারপরও বিএনপির জন্য এটি এক বড় রাজনৈতিক চাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

All Categories