ইরানের পরমাণু স্থাপনা ধ্বংসের ক্ষমতা নেই ইসরাইলের, যুক্তরাষ্ট্রের সক্ষমতা কতটুকু?
ইরানের ভূপৃষ্ঠের অনেক নিচে অবস্থিত ফোরদো পারমাণবিক স্থাপনা ধ্বংসের সক্ষমতা ইসরায়েলের নেই বলে মনে করছেন সামরিক বিশ্লেষকেরা। তাঁদের মতে, এত গভীরে থাকা স্থাপনায় হামলা চালানোর মতো ‘বাঙ্কার বাস্টার’ বোমা এবং তা বহনকারী বিমান কেবল যুক্তরাষ্ট্রেরই রয়েছে।
সম্প্রতি ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার মধ্যে আলোচনায় এসেছে ইরানের এই ফোরদো পারমাণবিক স্থাপনা। এটি রাজধানী তেহরান থেকে উত্তরে একটি পাহাড়ের নিচে, মাটির প্রায় ৮০ থেকে ৯০ মিটার গভীরে অবস্থিত।
মার্কিন সামরিক তথ্যের বরাতে সিএনএন জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি ‘জিবিইউ-৫৭/বি’ নামের বাঙ্কার বাস্টার বোমা মাটির প্রায় ২০০ ফুট গভীরে প্রবেশ করতে পারে। ওজন প্রায় ৩০ হাজার পাউন্ড বা সাড়ে ১৩ হাজার কেজি। তবে এটি নিয়ন্ত্রিতভাবে ফেলার জন্য প্রয়োজন বি-২ স্টিলথ বোমারু বিমান, যা শুধুমাত্র যুক্তরাষ্ট্রেরই রয়েছে।
ওয়াশিংটন ডিসির থিঙ্ক ট্যাঙ্ক স্টিমসন সেন্টারের সিনিয়র ফেলো বারবারা স্লাভিন আল-জাজিরাকে বলেন, ‘ইসরায়েলের পক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা ছাড়া ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংস করা সম্ভব নয়।’
এই বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ইয়েচিয়েল লেইটার বলেন, ‘ফোরদোকে আকাশ থেকে বোমা ফেলে ধ্বংস করতে পারে কেবল যুক্তরাষ্ট্র।’
বিশেষজ্ঞদের মতে, ফোরদো এতটাই গভীরে যে একাধিক বোমা ফেললেও নিশ্চিতভাবে ধ্বংস করা যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক সামরিক কর্মকর্তা ও বিশ্লেষক কর্নেল সেড্রিক লেইটন বলেন, ‘আমি বারবার একই জায়গায় আঘাত হানার ওপর নির্ভর করব, কিন্তু তাতেও সফলতা নিশ্চিত নয়।’
রয়্যাল অস্ট্রেলিয়ান বিমান বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা পিটার লেটন বলেন, ‘বারবার বোমা ফেললেও এটি ধ্বংস হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করা কঠিন।’
জানা গেছে, জিবিইউ-৫৭ বোমাটি ইসরায়েলের কাছে নেই। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কখনো ইসরায়েলকে এই বোমা দেওয়া হয়নি।
এই বোমা ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বড় প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। সাবেক মার্কিন জেনারেল ভোটেল বলেন, ‘এ ধরনের হামলায় পারমাণবিক দূষণের আশঙ্কা রয়েছে এবং ইরানের সার্বভৌমত্বে হস্তক্ষেপের ইঙ্গিতও থাকবে।’
২০২৩ সালের মার্চে আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থা (আইএইএ) জানিয়েছিল, ইরানের ফোরদো স্থাপনায় ৮৩ দশমিক ৭ শতাংশ মাত্রার ইউরেনিয়াম শনাক্ত করা হয়েছে, যা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে ব্যবহৃত ৯০ শতাংশের খুব কাছাকাছি।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, ১৯৮১ সালে ইসরায়েল যখন ইরাকের পারমাণবিক স্থাপনায় বোমা মেরে ধ্বংস করেছিল, সেই অভিজ্ঞতা মাথায় রেখে ইরান ফোরদোর মতো স্থাপনাগুলো পাহাড়ের নিচে, অনেক গভীরে তৈরি করেছে। সেসব স্থাপনায় হামলা চালানো এখন অনেক বেশি জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ।