ইরানের কাছে ক্ষতিপূরণের দাবি সংযুক্ত আরব আমিরাতের

ইরানের কাছে আর্থিক ও রাজনৈতিক ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। স্থানীয় সময় গতকাল রবিবার (২৯ মার্চ) সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্টের কূটনৈতিক উপদেষ্টা আনোয়ার গারগাশ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় এই দাবি জানান। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতে আরব আমিরাত ক্রমাগত হামলার মুখে পড়ায় এই মন্তব্য করেছেন তিনি।

উপদেষ্টা আনোয়ার গারগাশ বলেছেন, ‘উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর ইরানের হামলা মোকাবেলায় যেকোনো রাজনৈতিক সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু করার জন্য ইরানের ক্ষতিপূরণ দেওয়া উচিত।আনোয়ার গারগাশ বলেছেন, ‘যুদ্ধের আগে ইরান তার উদ্দেশ্য সম্পর্কে প্রতিবেশী দেশগুলোকে বিভ্রান্ত করেছে এবং পরিস্থিতি উত্তেজনা এড়ানোর চেষ্টা সত্ত্বেও আগে থেকেই পরিকল্পিত আগ্রাসনের পরিচয় দিয়েছে।’ তিনি আরো বলেন, ‘ইরানের শাসনব্যবস্থা এখন উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য প্রধান হুমকিতে পরিণত হয়েছে।’

গারগাশের এই মন্তব্য এমন সময় এসেছে, যখন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান আলোচনার খবর পাওয়া যাচ্ছে। একই সঙ্গে উপসাগরীয় দেশগুলোও ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, তারা এই আলোচনার ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে চায়।এক্সে প্রকাশিত একটি পোস্টে তিনি বলেন, ‘এ ধরনের সমাধানে এমন স্পষ্ট নিশ্চয়তা থাকতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে আবার হামলা না হয়।’ তার অভিযোগ, যুদ্ধ শুরুর আগে ইরান নিজের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে প্রতারণা করেছে। শান্তিপূর্ণভাবে পরিস্থিতি এড়ানোর চেষ্টা করা হলেও শেষ পর্যন্ত ইরানের আগেই পরিকল্পনা করা আগ্রাসন প্রকাশ পেয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

গত এক মাসে ইরান সংযুক্ত আরব আমিরাতের ওপর ব্যাপক হামলা চালিয়েছে।সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এই যুদ্ধে তেহরান ৩৮৭টি ক্ষেপণাস্ত্র ও এক হাজার ৮২৬টি ড্রোন নিক্ষেপ করেছে। এতে ১১ জন নিহত এবং ১৬৯ জন আহত হয়েছেন। এই হামলায় বিভিন্ন বেসামরিক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে একটি হোটেল, একটি বিমানবন্দর, জ্বালানি সংরক্ষণাগার, ফুজাইরাহ বন্দর এবং ইসরায়েলি দূতাবাস থাকা ভবনগুলোও ছিল।

যুদ্ধের শুরুতেই গারগাশ ইরানকে সতর্ক করে বলেছিলেন, ‘আপনার যুদ্ধ প্রতিবেশীদের সঙ্গে নয়।তিনি তেহরানকে ‘বুদ্ধিমত্তার পথে ফিরে আসতে’ এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর প্রতি দায়িত্বশীল আচরণ করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করেন, উত্তেজনা বাড়তে থাকলে ইরান আঞ্চলিকভাবে আরো বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে।

 

সূত্র : টাইমস অব ইসরায়েল 

 


 

All Categories