ইলিয়াস কাঞ্চনের নেতৃত্বে ‘জনতা পার্টি বাংলাদেশ’-এর আত্মপ্রকাশ

ঢাকাই চলচ্চিত্রের একসময়ের জনপ্রিয় অভিনেতা ও নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের পুরোধা ইলিয়াস কাঞ্চনের নেতৃত্বে আত্মপ্রকাশ করল নতুন একটি রাজনৈতিক দল ‘জনতা পার্টি বাংলাদেশ’। দলের শ্লোগান: ‘গড়বো মোরা ইনসাফের বাংলাদেশ’।

শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টায় রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে দলটির নাম ও কাঠামো ঘোষণা করেন জাতীয় প্রেসক্লাব ও বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সাবেক সভাপতি এবং বিএনপির সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান শওকত মাহমুদ।

দলের চেয়ারম্যান হিসেবে থাকছেন ইলিয়াস কাঞ্চন নিজেই। দলটির সেক্রেটারি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন শওকত মাহমুদ।

১৯৯৩ সালে স্ত্রী জাহানারা কাঞ্চনের সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর পর থেকেই ইলিয়াস কাঞ্চন সামাজিক আন্দোলনে সক্রিয় হন। তার নেতৃত্বেই গড়ে ওঠে ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ (নিসচা) নামের দেশজুড়ে পরিচিত একটি প্ল্যাটফর্ম। দীর্ঘদিনের সেই সামাজিক ভূমিকার পর এবার সরাসরি রাজনীতিতে যুক্ত হলেন এই অভিনেতা।

ঘনিষ্ঠ সূত্র জানায়, অতীতে বিভিন্ন সময় ইলিয়াস কাঞ্চনকে বিভিন্ন দল থেকে রাজনীতিতে আহ্বান জানানো হলেও এই প্রথম নিজস্ব রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম নিয়ে সামনে এলেন তিনি।

‘জনতা পার্টি বাংলাদেশ’-এর আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও এমপি গোলাম সারোয়ার মিলন, বিএনপির সাবেক নেতা ও বিএনএম-এর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শাহ মোহাম্মদ আবু জাফর, জাতীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষক পরিষদের (জানিপপ) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহসহ আইনজীবী, অবসরপ্রাপ্ত সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা এবং বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের আহত ও নিহতদের পরিবারের সদস্যরা।

সংবাদ সম্মেলনে দলটির রূপরেখা, রাজনৈতিক দর্শন, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রস্তুতির কথাও তুলে ধরা হয়। দলটির নেতারা জানিয়েছেন, তারা দেশের রাজনীতিতে ‘জনগণের সরাসরি অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে’ চায় এবং রাজনীতিকে দুর্নীতি ও পেশিশক্তির প্রভাবমুক্ত করার প্রত্যয় নিয়ে যাত্রা শুরু করেছে।

শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর সাড়ে ছয় মাসে দেশে প্রায় ২২টি নতুন রাজনৈতিক দল আত্মপ্রকাশ করেছে। সেই প্রেক্ষাপটে ‘জনতা পার্টি বাংলাদেশ’-এর আবির্ভাব নতুন রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে একটি উল্লেখযোগ্য সংযোজন বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামীদিনগুলোতে দেশের বিভিন্ন জেলা ও বিভাগে জনসংযোগ ও গণসংলাপের মাধ্যমে দলটির কার্যক্রম বিস্তৃত করা হবে।

তবে তারা কতটা প্রভাব ফেলতে পারবে রাজনীতির মাঠে, তা সময়ই বলে দেবে।

All Categories