হোয়াইটওয়াশ এড়াতে পারবে কি লিটনের বাংলাদেশ ?

প্রথম দুই ম্যাচেই লড়াইয়ের ছিটেফোঁটা ছিল না, বিশেষ করে দ্বিতীয় ম্যাচে বাংলাদেশ দলের চেহারাটা ছিলো বেশ বেহাল। ব্যাটিং-বোলিং-ফিল্ডিং—সবখানেই ছিল অনুজ্জ্বল পারফরম্যান্স। শরীরী ভাষাতেও দেখা যায়নি আত্মবিশ্বাস। তিন ম্যাচের সিরিজটা আগেই হাতছাড়া হয়েছে, তবে আজ শেষ ম্যাচে অন্তত খানিকটা সান্ত্বনা খোঁজার সুযোগ রয়েছে লিটন দাসের দলের সামনে।

আজ রাত ৯টায় লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে পাকিস্তানের বিপক্ষে তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টি খেলবে বাংলাদেশ। তবে এই ম্যাচেও বাংলাদেশ স্কোয়াড আরও দুর্বল হয়ে মাঠে নামছে। দ্বিতীয় ম্যাচে চোট পাওয়া পেসার শরিফুল ইসলাম ছিটকে গেছেন অন্তত তিন সপ্তাহের জন্য।

শরিফুলের অনুপস্থিতিতে নতুন কোনো পেসারের অভিষেক নিশ্চিত। সম্ভাব্য নাম খালেদ আহমেদ। টেস্ট ও ওয়ানডেতে খেলার অভিজ্ঞতা থাকলেও এখনো টি-টোয়েন্টিতে মাঠে নামা হয়নি এই ডানহাতি পেসারের।

পুরো সিরিজে বাংলাদেশের বোলিং ইউনিট ছিল বেশ হতাশাজনক। প্রথম ম্যাচে হতাশ করা শেখ মেহেদী হাসানকে বাদ দিয়ে দ্বিতীয় ম্যাচে খেলানো হয় মেহেদী হাসান মিরাজকে। কিন্তু তাতেও কোনো ফল আসেনি। মিরাজও ছিলেন খরুচে।

বোলিংয়ের পাশাপাশি চিন্তার ভাঁজ আরও গভীর মিডল অর্ডারে। তাওহিদ হৃদয় ফর্মে নেই, শামীম হোসেনও রান খরায় ভুগছেন। তাতে ভরসার জায়গা তৈরি হচ্ছে না। স্কোয়াডেও নেই মিডল অর্ডারের জন্য বিশেষজ্ঞ বিকল্প ব্যাটার। ফলে আজকের ম্যাচেও এ দুজনের ওপরই ভরসা রাখতে হচ্ছে।

অধিনায়ক লিটন দাস প্রথম ম্যাচে কিছুটা ছন্দে ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন—৩০ বলে ৪৮ রান করে। তবে দ্বিতীয় ম্যাচে তিনি ছিলেন ব্যর্থ। ব্যাটিংয়ের সময় সতীর্থ হৃদয়ের সঙ্গে সমন্বয়হীনতায় মেজাজ হারান, আর পরের বলেই আউট হয়ে সাজঘরে ফিরেন। আজকের ম্যাচে ব্যাট হাতে যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি নেতৃত্বের দিক থেকেও পরিপক্বতা দেখানো জরুরি হয়ে উঠেছে লিটনের জন্য।

শেষ ম্যাচে জয় পেলে অন্তত খানিকটা আত্মবিশ্বাস নিয়ে মাঠ ছাড়তে পারবে বাংলাদেশ দল। যদিও কাজটা সহজ হবে না।

লাহোরের উইকেট আগে ব্যাট করা দলের জন্য তুলনামূলকভাবে সহায়ক। সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচেই সেটি প্রমাণিত হয়েছে। তাই আজকের ম্যাচে টসও হয়ে উঠবে গুরুত্বপূর্ণ। সমস্যা হলো, স্থায়ী অধিনায়কত্ব পাওয়ার পর টানা পাঁচ টস হেরেছেন লিটন দাস। এবার কি ফিরবে ভাগ্য?

All Categories