হাসপাতালে ভর্তির এক দিনের মধ্যেই অর্ধেকের বেশি ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু
চলতি বছর ডেঙ্গুতে মারা যাওয়া রোগীদের মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই মারা গেছেন। মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৭৯ জনে। সোমবার বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সভাকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবু জাফর।
অধ্যাপক জাফর বলেন, মৃত্যুর পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, অনেক রোগী দেরিতে হাসপাতালে আসছেন। খারাপ অবস্থায় ভর্তি হচ্ছেন। ফলে চিকিৎসা দেওয়ার সুযোগ কমে যাচ্ছে। সময়মতো চিকিৎসা না পাওয়ায় মৃত্যুর ঝুঁকি বহুগুণ বাড়ছে।
তিনি আরও বলেন, ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ার পর দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং প্রয়োজনে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি হলে মৃত্যুর হার কমানো সম্ভব।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জানান, প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়ে যায়। গত বছরের তথ্য অনুযায়ী, জুনে মারা যান ৮ জন, জুলাইয়ে ১৪ জন, আগস্টে ৩০ জন এবং সেপ্টেম্বরে ৮৭ জন। একই সময়ে সেপ্টেম্বরে রোগী ভর্তি হয়েছিল সবচেয়ে বেশি ১ হাজার ৮৯৭ জন। এ বছরও একই ধারা দেখা যাচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে অধ্যাপক জাফর বলেন, যত ব্যবস্থাপনাই নেওয়া হোক না কেন, জনগণ সচেতন না হলে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। শুরুতেই রোগ চিহ্নিত করা এবং চিকিৎসা শুরু করা অত্যন্ত জরুরি।তিনি সাংবাদিকদের সহযোগিতাও কামনা করেন, যেন মানুষকে সচেতন করতে সবাই একসঙ্গে কাজ করে।
মহাপরিচালক জানান, ডেঙ্গু শনাক্তে ব্যবহৃত এনএস১–কিট দেশের সব জায়গায় রয়েছে এবং পর্যাপ্ত মজুদ আছে। সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ ও হাসপাতাল ব্যবস্থাপনার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও এ বিষয়ে তদারকি করছেন।
সাম্প্রতিক মৃত্যুর হিসাব নিয়ে বিভ্রান্তি প্রসঙ্গে অধ্যাপক জাফর বলেন, ‘প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছিল, ২৪ ঘণ্টায় ১২ জন মারা গেছেন। প্রকৃতপক্ষে এর ৯ জন মারা গেছেন বৃহস্পতিবার। কিন্তু শুক্রবার সরকারি ছুটি থাকায় সেদিন সংখ্যা প্রকাশ হয়নি। এতে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। এটা আমাদের ব্যর্থতা বলেই মনে করি।