হাজার হাজার স্মৃতি জমা থাকবে, মস্তিষ্কে বসানো যাবে স্মৃতি সংরক্ষণের যন্ত্র
অতীতের কোনো ঘটনা মনে করতে হিমশিম খাচ্ছেন? একবার চোখে দেখেও বা কানে শুনেও তা ভুলে যাচ্ছেন? কোরিয়ার বিজ্ঞানীরা তৈরি করেছেন এমন এক যন্ত্র, যা স্মৃতি ধরে রাখবে দিনের পর দিন। শুধু তাই নয়, প্রয়োজন অনুযায়ী সেই স্মৃতি মুছে ফেলাও যাবে।
যন্ত্রটির নাম ‘পিসিএল-টেম্পো’
কোরিয়া ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির গবেষকেরা তৈরি করেছেন এই অভিনব যন্ত্র। যন্ত্রটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘পিসিএল-টেম্পো’। এটি তৈরি হয়েছে পলিক্যাপ্রোল্যাকটন (পিসিএল) নামের এক ধরনের বায়ো-পলিমার দিয়ে। বিজ্ঞানীদের দাবি, এই উপাদানটি মানবদেহের সঙ্গে মিশে যেতে সক্ষম এবং এটি জলে সম্পূর্ণ দ্রবণীয়। অর্থাৎ প্রয়োজনে যন্ত্রটি শরীর থেকে বের করে ফেললে তা বর্জ্য হিসেবে জমা হবে না, বরং পরিবেশবান্ধব উপায়ে গলে যাবে।
মস্তিষ্কে সংরক্ষিত থাকবে স্মৃতি
এই যন্ত্রটিকে মস্তিষ্কে বসানো হলে তা বৈদ্যুতিনভাবে স্মৃতি সংরক্ষণ করতে পারবে। প্রতিমুহূর্তে কী ঘটছে, তা মনে রাখবে ডিভাইসটি। এমনকি পুরোনো স্মৃতি নতুন করে মনে করিয়ে দেওয়ার ক্ষমতাও রাখে এটি। গবেষকেরা বলছেন, এটি ঠিক স্মার্টফোনের মেমরি চিপের মতোই কাজ করে—তবে জায়গা হলো মানুষের মস্তিষ্ক।
চাইলেই স্মৃতি মুছে ফেলা যাবে
ডিভাইসটিতে এমন প্রযুক্তিও থাকবে, যার মাধ্যমে কোনো অপ্রিয় স্মৃতি মুছে ফেলা সম্ভব। একটি যন্ত্রে অন্তত ২৫০ বার তথ্য সংরক্ষণ ও মুছে ফেলার প্রক্রিয়া চালানো যাবে। যন্ত্রটির প্রয়োজন ফুরালে সহজেই তা গলিয়ে ফেলা যাবে।
অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন নেই
এই যন্ত্র বসাতে বা সরাতে মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন নেই, এমনটাই জানিয়েছেন গবেষকেরা। অপারেশন ছাড়াই এটি মস্তিষ্কের কোষে মিশে যেতে পারবে।
চিকিৎসকদের উদ্বেগ
তবে সবটাই যে ইতিবাচক, তা মানতে নারাজ স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞরা। চিকিৎসক অনিমেষ কর জানান, “এমন যন্ত্র কাজ করবেই, সন্দেহ নেই। কিন্তু এতে মানুষের স্বাভাবিকভাবে মনে রাখার ক্ষমতা কমে যেতে পারে। আগে থেকেই মানুষ যন্ত্রনির্ভর হয়ে উঠছে, তার ওপর মস্তিষ্কের কাজ যদি এমনভাবে যন্ত্রের উপর নির্ভরশীল হয়, তবে স্মৃতিশক্তি আরও দুর্বল হয়ে যেতে পারে।”
পুলিশ ও গোয়েন্দা বিভাগের জন্য উপযোগী হতে পারে
গবেষকেরা বলছেন, স্মৃতি ধরে রাখার এই যন্ত্র পুলিশ, গোয়েন্দা বিভাগ বা তথ্যভিত্তিক কাজে নিযুক্তদের জন্য অত্যন্ত কার্যকর হতে পারে।
যদিও যন্ত্রটির কত দিন কার্যকর থাকবে এবং কত পরিমাণ তথ্য জমা রাখতে পারবে, তা এখনো পুরোপুরি নির্ধারণ হয়নি। এ নিয়ে গবেষণা চলছে।
স্মৃতি ধরে রাখার এই প্রযুক্তি মানবসভ্যতার এক নতুন দিগন্ত উন্মোচনের সম্ভাবনা তৈরি করলেও, এর ব্যবহার এবং ফলাফল নিয়ে এখনই নিশ্চিত করে কিছু বলছে না বিজ্ঞানী সমাজ।