গ্যাস সংকটে আশুগঞ্জ সার কারখানায় ইউরিয়া উৎপাদন বন্ধ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ সার কারখানায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আবারও ইউরিয়া উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে।শনিবার রাত থেকে গ্যাস সরবরাহ না পাওয়ায় কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।এটি এমন একটি পরিস্থিতি, যা ৩৮ দিনের মাথায় পুনরায় ঘটল, এবং এরআগে ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত প্রায় ১১ মাস কারখানায় ইউরিয়া উৎপাদন বন্ধ ছিল।
আশুগঞ্জ সার কারখানার কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, কারখানাটি দৈনিক ১,১০০ টন ইউরিয়া উৎপাদন করার সক্ষমতা রাখে।কিন্তু এই পরিমাণ উৎপাদন নিশ্চিত করতে প্রতিদিন ৪কোটি ৮০ লাখ ঘন ফুট গ্যাসের প্রয়োজন। গতকাল সন্ধ্যার পর গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেয় বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড, ফলে রাত থেকেই ইউরিয়া উৎপাদন স্থগিত হয়ে যায়।
এবিষয়ে বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির উপ মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী জাহিদুর রেজা বলেন, ‘‘সরকারিনির্দেশে আশুগঞ্জ সার কারখানায় গ্যাসসরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে।সাধারণত এই মৌসুমে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করা হয়, এবং পরবর্তী সময়ে সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গ্যাস সরবরাহ পুনরায় শুরু হবে।তিনি আরও জানান, বাকি চারটি কারখানায় গ্যাস সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে এবং সেখানে উৎপাদন চলছে।
পুনরায় গ্যাস সংকট সৃষ্টি হওয়ায় কারখানার শ্রমিকদের মধ্যে হতাশা এবং উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তারা বলছেন, গ্যাস সংকট এবং যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে অতীতে দীর্ঘ সময় ধরে উৎপাদন বন্ধ থাকায় গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশও নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।বছরের বেশির ভাগ সময় গ্যাসস রবরাহ না পাওয়ায় কারখানাটি বর্তমানে অলাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হচ্ছে।
গতবছরের ১৫ নভেম্বর গ্যাস সরবরাহ পুনরায় শুরু হওয়ার পর ২৩ জানুয়ারি থেকে ইউরিয়া উৎপাদন আবার শুরু হয়েছিল। কিন্তুমাত্র ৩৮ দিনের মধ্যে পুনরায় উৎপাদন বন্ধ হওয়া দেশের সার বাজারের জন্য উদ্বেগ জনক হতে পারে।
এ বিষয়ে কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রবীর কুমার নাথের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। কারখানার মহাব্যবস্থাপক (অপারেশন) এ বি মাহমুদও প্রশাসন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কোনো মন্তব্য করতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন।
এদিকে, উৎপাদন বন্ধ হওয়ার ফলে আশুগঞ্জ সার কারখানার ভবিষ্যৎনিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। দীর্ঘ সময়ের জন্য উৎপাদন বন্ধথাকলে কারখানার উৎপাদন সক্ষমতা ও দেশীয় সার উৎপাদন ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, যা কৃষি খাতের জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হতে পারে।