গণমাধ্যম শক্ত থাকলে গণতন্ত্র টেকসই হবে: মির্জা ফখরুল
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, একটি শক্তিশালী ও স্বাধীন গণমাধ্যম টেকসই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তিনি বলেন, গণমাধ্যম শক্তিশালী থাকলে গণতন্ত্রও টেকসই হবে।
শুক্রবার সকালে টিভি এডিটরস কাউন্সিল আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি হলো জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন। তাঁর ভাষায়, “গণতন্ত্র হচ্ছে বৃহত্তর জনগোষ্ঠী যেভাবে চায়, সেভাবে দেশ পরিচালনা করা। মানুষের চিন্তা-ভাবনা, মতপ্রকাশ ও জীবনযাপনের প্রতিটি ক্ষেত্রে গণতান্ত্রিক চর্চা না থাকলে ধরে নিতে হবে, প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়নি।”
সরকারের সমালোচনার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “তিন-চার মাস না যেতেই আমরা রাস্তায় নেমে গেছি। সরকারকে ব্যর্থ বলে পাঁচ বছরও যেতে দেওয়া হবে না এ ধরনের বক্তব্য ফ্যাসিবাদী মানসিকতার পরিচয় বহন করে।”
আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, দলটি মুখে গণতন্ত্রের কথা বললেও বাস্তবে তার বিপরীত কাজ করেছে। তাঁর দাবি, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গণতন্ত্রের নামে দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্বল করা হয়েছে।
মির্জা ফখরুল বলেন, টেকসই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া। তিনি বলেন, “পাশ্চাত্যের অনেক দেশে টেকসই গণতন্ত্র গড়ে উঠতে শতাব্দীর পর শতাব্দী সময় লেগেছে। কিন্তু আমরা খুব অস্থির হয়ে পড়ি।”
গণমাধ্যমের ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমরা চাই একটি শক্তিশালী গণমাধ্যম থাকুক, যেখানে আলোচনা-সমালোচনার সুযোগ থাকবে। তবে অনেক সময় টকশোর আলোচনা শুনে মনে হয়, সরকার পুরোপুরি ব্যর্থ এবং দেশ ধ্বংস হয়ে গেছে। সমালোচনা অবশ্যই থাকবে, তবে তা হতে হবে দায়িত্বশীল। গণমাধ্যম যদি শক্তিশালী থাকে, তাহলে গণতন্ত্রও টেকসই হবে।