গণ-অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধ শক্তি একটি ছদ্ম–যুদ্ধ চালাচ্ছে: মাহফুজ আলম
অন্তর্বর্তী সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মো. মাহফুজ আলম গণ-অভ্যুত্থানের বিরোধী শক্তির বিরুদ্ধে একটি ছদ্ম-যুদ্ধের বিষয়টি উত্থাপন করেছেন। তিনি তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে এ মন্তব্য করেন যার শিরোনাম ছিল গণ-অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধ শক্তি একটি ছদ্ম-যুদ্ধ চালাচ্ছে।
পোস্টে মাহফুজ আলম জানান গতকাল (রোববার) প্রধান উপদেষ্টার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একটি পর্যালোচনা সভায় সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। সভায় নারী ও শিশু নির্যাতন এবং সহিংসতা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ, নিষিদ্ধ সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়। তিনি বলেন সরকার ইতিমধ্যে অপরাধীদের গ্রেপ্তারের কাজ শুরু করেছে এবং বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য তৎপর রয়েছে।
এছাড়া ছাত্র-যুবকদের জন্য লক্ষাধিক চাকরির ব্যবস্থা এবং তরুণদের জন্য একটি জাতীয় কর্মসূচি গ্রহণের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। শিগগিরই এসব বিষয়ে দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে তিনি জানিয়েছেন। সরকার জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে এবং এই লক্ষ্যে সমন্বিত তৎপরতা ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে।
মাহফুজ আলম তাঁর পোস্টে আরও বলেন সরকার দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার ও বিচার, এবং বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করার পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়ন করছে। তিনি উল্লেখ করেন জুলাই মাসে শহীদ ও আহত ব্যক্তিদের জন্য ইতিবাচক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন দেশের সামরিক-বেসামরিক আমলাতন্ত্র ব্যবসায়ী শ্রেণি এবং মিডিয়ার মধ্যে গণ-অভ্যুত্থানের শক্তিগুলোর বিরোধ এবং স্বার্থান্বেষা সরকারের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। এই পরিস্থিতি সরকারের জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে কারণ একদিকে গণ-অভ্যুত্থানের বিরোধী শক্তির ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন অন্যদিকে তাদের প্রচেষ্টা জনগণের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করছে।
সরকার বর্তমানে একটি শক্তিশালী দেশি-বিদেশী জোটের বিরুদ্ধে লড়াই করছে যারা গণ-অভ্যুত্থানে পরাজিত হওয়ার পরও ফের সক্রিয় হয়ে উঠেছে।এই শক্তিগুলো জনগণের ঐক্যকে ভেঙে ফেলতে উঠেপড়ে লেগেছে তবে আমাদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল সেনাবাহিনী রাজনৈতিক দল ও অভ্যুত্থানের বিভিন্ন শক্তিকে মুখোমুখি না করা।এই পরিস্থিতি সামলাতে সরকারের কৌশল হচ্ছে বিভাজন সৃষ্টি না করে একত্রে কাজ করা।
দেশে চলমান রাজনৈতিক সংকট এবং নানা চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও নির্বাচন যথাসময়েই অনুষ্ঠিত হবে। সরকার রাষ্ট্র সংস্কার গণহত্যা ও লুটপাটের বিচার এবং গণতান্ত্রিক রূপান্তরের বিষয়ে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।এ সরকারের আমলে দেশ গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ তৈরি হয়েছে যার ফলে বিদেশি মহলও সরকারের পরিবর্তনের জন্য দ্রুত প্রেস্ক্রিপশন দিচ্ছে। নির্বাচনের সময়সূচি ঠিকমতো বাস্তবায়িত হবে এবং এই সরকারের নেতৃত্বে দেশের আইন বিচার এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে।
মাহফুজ আলমের এই পোস্টে তিনি সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনা এবং দেশটির ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক দিক নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।