ঘরমুখো মানুষের ভিড়, যমুনা সেতু এলাকায় ২৫ কিলোমিটার যানজট
ঈদের ছুটিতে কর্মস্থল ছেড়ে বাড়ি ফিরতে গিয়ে যানজটে ভোগান্তির শিকার হয়েছেন অসংখ্য মানুষ।
বৃহস্পতিবার (৫ জুন) ভোর থেকে টাঙ্গাইলের আশেরপুর বাইপাস থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট দেখা গেছে। এতে যানবাহনগুলো থেমে থেমে ধীরগতিতে চলছে, আর অনেক জায়গায় একেবারে স্থবির হয়ে পড়ছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঈদে মানুষের ঢল নামায় মহাসড়কে স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি গাড়ি চলাচল করছে। বিশেষ করে বুধবার সন্ধ্যার পর থেকে যানবাহনের চাপ বাড়তে থাকে। রাতে কিছু যানবাহন বিকল হয়ে পড়ায় যানজট আরও তীব্র হয়ে যায়।
আজ সকাল ৯টার দিকে যানজট টাঙ্গাইল শহর বাইপাস পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। যাত্রী মোস্তাক হোসেন জানান, সকাল ৭টায় টাঙ্গাইল শহর বাইপাস এলাকায় ঢুকে দুই ঘণ্টায় মাত্র ছয় থেকে সাত কিলোমিটার এগোতে পেরেছেন। তারা বারবার থেমে থেমে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন।
যমুনা সেতুর টোল প্লাজা সূত্রে জানা গেছে, যানজট কমাতে আজ সকালে প্রায় এক ঘণ্টা উভয় লেন খুলে দিয়ে উত্তরবঙ্গগামী গাড়িগুলো পারাপার করানো হয়। গত ২৪ ঘণ্টায় (মঙ্গলবার রাত ১২টা থেকে বুধবার রাত ১২টা পর্যন্ত) যমুনা সেতু দিয়ে পারাপার হয়েছে ৫১ হাজার ৮৪৯টি যানবাহন। এতে ৩ কোটি ৫৯ লাখ ৮৩ হাজার টাকা টোল আদায় হয়েছে। সাধারণ সময়ে যেখানে দিনে ১৬ থেকে ১৮ হাজার যানবাহন পারাপার হয়, সেখানে এবার তিন গুণের বেশি গাড়ি পার হয়েছে।
টোল আদায়ের হিসাবে দেখা গেছে, এই ২৪ ঘণ্টায় উত্তরবঙ্গগামী গাড়ির সংখ্যা ৩০ হাজার ৮৪৫টি, আর ঢাকামুখী গাড়ির সংখ্যা ২১ হাজার ৪টি। এসব গাড়ির টোল থেকে যথাক্রমে ১ কোটি ৮৪ লাখ ৯৭ হাজার ৩৫০ টাকা ও ১ কোটি ৭৪ লাখ ৮৫ হাজার ৬৫০ টাকা আয় হয়েছে। এত বিপুল গাড়ির চাপই ঈদযাত্রায় যানজটের এই ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেছে।