ঘোষণা ছাড়াই সিনেপ্লেক্সে টিকিটের দাম বৃদ্ধি

আগাম কোনো ঘোষণা ছাড়াই রাজধানীর জনপ্রিয় মাল্টিপ্লেক্স চেইন স্টার সিনেপ্লেক্স হঠাৎ সিনেমার টিকিটের দাম বাড়িয়েছে। ৫০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত দাম বৃদ্ধি করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দর্শক ও বিনোদন অঙ্গনের অনেকেই।

ঈদের ছুটির পরেও দেশের সিনেমাগুলো দর্শকপ্রিয়তা ধরে রেখেছে। এমন পরিস্থিতিতে স্টার সিনেপ্লেক্সে টিকিটের মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ দর্শকের জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বর্তমানে সিনেপ্লেক্সে সর্বনিম্ন টিকিটের দাম ৪০০ টাকা, যা আগে ছিল ৩৫০ টাকা। আর সর্বোচ্চ টিকিটের দাম ১,৮০০ টাকা যেটি আগে ছিল ১,৫০০ টাকা। ভিভিআইপি শ্রেণির এই টিকিট মূলত সন্ধ্যা ও ছুটির দিনের চাহিদাসম্পন্ন শোগুলোর জন্য বরাদ্দ থাকে।

একই প্রেক্ষাগৃহে বিভিন্ন সময়ে টিকিটের দামে ব্যাপক পার্থক্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সকালে যেই টিকিটের দাম ৪০০ টাকা, বিকেল-সন্ধ্যায় গিয়ে তা দাঁড়ায় ৫০০ টাকা কিংবা তারও বেশি। কখনো কখনো এই পার্থক্য ২০০ থেকে ২৫০ টাকায় গিয়েও ঠেকে।

স্টার সিনেপ্লেক্সের জ্যেষ্ঠ বিপণন কর্মকর্তা মেজবাহ আহমেদ বলেন, টিকিটের দাম কিছুটা বেড়েছে। সার্বিক বিবেচনায় এই মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে। দর্শকের ওপর যাতে নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে, সেজন্যই সীমিত পরিসরে দাম বাড়ানো হয়েছে।

তিনি আরও জানান, ১,৮০০ টাকার টিকিট হচ্ছে ভিভিআইপি শ্রেণির। এর বাইরে সাধারণ শোগুলোর টিকিট ৪০০ টাকা থেকে শুরু। সকালের ও দুপুরের শোতে দাম কম, বিকেল ও সন্ধ্যায় তা বাড়ে। সবকিছুর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই আমরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

এই হঠাৎ মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন নির্মাতারাও। ঈদে মুক্তি পাওয়া মোশাররফ করিম অভিনীত ‘চক্কর’ সিনেমার পরিচালক শরাফ আহমেদ নিজের হতাশা ব্যক্ত করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, ‘কথায় আছে, অভাগী যেদিকে যায় নদী শুকিয়ে যায়! আমার অবস্থাও অনেকটা ওই রকমই!

তিনি জানান, ‘ঈদের পরপরই উত্তরার সেন্টার পয়েন্টে “চক্কর”-এর শো ছিল এক–দুই দিন। যতদূর জানি, হাউসফুল ছিল। তারপর হুট করেই বন্ধ! কারণ জানি না, জানার চেষ্টাও করিনি। এরপর রাত ১১টায় সিনেপ্লেক্সের ওয়েবসাইটে দেখি, সকালের শোর টিকিট ৯০০ টাকা, বিকেলের ১,২০০! আমার দর্শক হচ্ছে শিক্ষার্থী, মধ্যবিত্ত তরুণ চাকরিজীবী। তাদের পক্ষে এত টাকা দিয়ে সিনেমা দেখা দুঃসাধ্য।

দর্শকরাও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের অসন্তোষ প্রকাশ করছেন। অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন, দর্শকের আগ্রহকে পুঁজি করেই কি এই মূল্যবৃদ্ধি?

ঈদের শুরুতে স্টার সিনেপ্লেক্সে ছয়টি সিনেমা প্রদর্শিত হলেও বর্তমানে চারটি সিনেমা চলছে। তবুও প্রতিটি শোই হাউসফুল যাচ্ছে। হলিউড সিনেমা নামিয়ে দেশি ছবিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার এই সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানালেও হঠাৎ টিকিটের মূল্যবৃদ্ধি বিনোদনপ্রেমীদের কাছে একটি নেতিবাচক বার্তা দিচ্ছে বলে মত বিশ্লেষকদের।

শিল্পী ও নির্মাতারা মনে করছেন, টিকিটের মূল্য নির্ধারণে একটি স্বচ্ছ ও পূর্বঘোষিত নীতি থাকলে দর্শক যেমন প্রস্তুত থাকতে পারেন, তেমনি সিনেমা দেখাও আরও সহজ হবে। বিশেষত, দেশের মধ্যবিত্ত ও তরুণ প্রজন্মকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া বাংলা সিনেমাগুলোর ভবিষ্যৎ এই শ্রেণির ওপরই নির্ভর করছে বলে মনে করেন তাঁরা।

All Categories