গাড়িহীন এক মায়ার শহরে স্বাগতম!

ভাবুনতো, কেমন হতো যদি আপনার শহরে কোনো গাড়ি-ঘোড়া না থাকত! মনের আনন্দে সাইকেল চালিয়ে দিব্যি ঘুরে বেড়াচ্ছেন, বন্ধুদেরসঙ্গে চুটিয়ে আড্ডা দিচ্ছেন, কিংবা ইচ্ছা হলো তো বেরিয়ে পড়লেন পাহাড়ে, তাও যেন-তেনভাবেনয়, রীতিমতো কেবল কারে চড়ে!  ইট-কাঠের খটখটে ঢাকা শহরে এস্বপ্নপূরণের সুযোগ নেই এ জীবনে। চাইলে কিন্তু স্বপ্নটাকে বাস্তবেও রূপ দিতে পারবেন। তবে এজন্য আপনাকে যেতে হবে সুইজারল্যান্ডের জারম্যাট! 

সুইসআল্পসের বুকে পরিবেশবান্ধব এক টুকরো   স্বর্গ জারম্যাট শুধু একটি সুন্দর শহরই নয় — এটি একটি গাড়িমুক্ত, সুশৃঙ্খল শহর।

জারম্যাটের রাস্তায় নেই কোনো হর্নের আওয়াজ বা যানবাহনের ধোঁয়া।এখানে চলে শুধুই ইলেকট্রিকবাস, ট্যাক্সি এবং ঐতিহ্যবাহী ঘোড়ার গাড়ি। বাতাস পরিষ্কার, আর পরিবেশে রয়েছেনিস্তব্ধতা। এই শহরের পরিবেশবান্ধবনীতির ফলেই দূষণ কমেছেঅনেক, আর প্রকৃতির রূপও রয়ে গেছে অবিকৃত!

জারম্যাট পৌঁছানোর পথটিও যেন এক অনন্য অভিজ্ঞতা। ট্রেনে করে আপনি পাড়ি দেবেন অপরূপ সুইস প্রাকৃতিক দৃশ্যপট — বরফে ঢাকা পাহাড়, ঝকঝকেলেক আর ছোট ছোটগ্রাম। আর ট্রেন জানালায়হ ঠাৎ দেখা দেবে আইকনিকম্যাটারহর্ন — যা পৃথিবীর অন্যতম সুন্দর পর্বতশৃঙ্গ। ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে আপনি যেতে পারবেন কেবল তাশ (Täsch) পর্যন্ত। সেখান থেকে সাড়ে পাঁচকিলোমিটার দূরত্বের জারম্যাটে যেতে হবে ট্রেনে অথবা ছোট ইলেকট্রিক গাড়িতে। গাড়ি নিয়ে জারম্যাটে ঢুকতে চাইলে চাই একটি বিশেষঅনুমতিপত্র — না হলে দিতেহতে পারে মোটা অঙ্কের জরিমানা।

জারম্যাটে এসে তাড়াহুড়া নয় — বরং ধীরপায়ে হেঁটে ঘুরুন শহরের মধ্যযুগীয় চেহারার গলিগুলোতে। ছোট ছোট দোকান, কাঠের চালে তৈরি চমৎকার কটেজ আর সুইস খাবারের স্বাদ আপনাকে দেবে মনে রাখার মতো অভিজ্ঞতা।

 

আর হাঁটা ক্লান্তিকর লাগলে উঠে পড়ুন ঘোড়ার গাড়িতে। ছোটদের জন্য যেমন আনন্দের, বড়রাও উপভোগ করবেন এই বিশেষ যাত্রা।

এখানকার স্থানীয়দের জীবনযাত্রাতেও যেন ফুটে ওঠে প্রকৃতির কোলে গড়ে ওঠা এক শান্তির প্রতিচ্ছবি!  মানুষের গড় আয়ু ৮৩থেকে ৮৪ বছর! বয়স মানে কি কেবল সংখ্যা?  জীবনের মানও অনেক সমৃদ্ধ হওয়ায় ৮০-৮৫ বছরের টগবগে যুবকরাও হেঁটে হেঁটে বেড়াচ্ছেন মনের আনন্দে!  শহরের সর্বত্র পরিবেশবান্ধব বৈদ্যুতিক যান, পায়ে হাঁটাপথ এবং চারপাশে বরফে ঢাকা পাহাড়ের দৃশ্য—এই সবকিছুর সমন্বয়ে জারম্যাট যেন পৃথিবীর বুকে এক দীর্ঘায়ু ও পরিপূর্ণ জীবনের আদর্শ উদাহরণ।

শুধু জারম্যাটই নয় ১৯৯৯ সালে  ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার না করার ব্যতিক্রমধর্মী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় স্পেনের পন্তেভেদ্রাশহরেও। হাঁটা ও সাইকেল চালানোর জন্য উপযোগী করে গড়ে তোলা হয় শহরটিকে, এতে করে বায়ুও শব্দ দূষণ কমে যায়, শূন্যের কোঠায় নেমে আসে সড়ক দুর্ঘটনাও।

এছাড়া, যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যে ম্যাকিনাক আইল্যান্ড (Mackinac Island) ১৮৯৮ সাল থেকে মোটর গাড়ি পুরোপুরি নিষিদ্ধ। এখানে মানুষ চলাফেরা করে মূলত ঘোড়ার গাড়ি, সাইকেল, বা হেঁটে। 

তাই, যদি আপনি খুঁজে থাকেন শান্তি, নির্মল বাতাস আর প্রকৃতির ছোঁয়া — তবে নিঃসন্দেহে জারম্যাট, পন্তেভেদ্রা কিংবা ম্যাকিনাক আইল্যান্ড হয়ে উঠতে পারে আপনার গন্তব্য!

সূত্র: দ্য মিরর

All Categories