গাজায় যুদ্ধবিরতি সংক্রান্ত ইসরায়েলের নতুন প্রস্তাব

ইসরায়েল গাজা উপত্যকায় যুদ্ধবিরতির বিষয়ে নতুন একটি প্রস্তাব দিয়েছে। মিশর ও কাতারের মধ্যস্থতায় হামাসের কাছে পৌঁছানো এই প্রস্তাবে প্রথমবারের মতো হামাসের নিরস্ত্রীকরণের শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে। মিশরের রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশন আল কাহেরা নিউজ টিভি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। খবর রয়টার্স ও আলজাজিরার।

ইসরায়েলের এই প্রস্তাব ইতিমধ্যে গাজা নিয়ন্ত্রণকারী হামাসের কাছে পৌঁছেছে বলে নিশ্চিত করেছেন গোষ্ঠীটির মুখপাত্র আবু জুহরি। তিনি জানিয়েছেন, হামাসের হাইকমান্ড প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করছে এবং ‘যত শিগগির সম্ভব’ তাদের সিদ্ধান্ত জানানো হবে।

তবে প্রস্তাবনায় হামাসের সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণের বিষয়টি যুক্ত থাকায় গোষ্ঠীটির প্রতিক্রিয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। আবু জুহরি বলেন, ‘হামাসের নিরস্ত্রীকরণ ইস্যুটির সঙ্গে অন্তত ১০ লাখ রেডলাইন যুক্ত। নতুন প্রস্তাব নিয়ে হাইকমান্ড আলোচনায় বসবে। দেখা যাক, কী সিদ্ধান্ত আসে।

ইসরায়েল বলেছে, হামাস যদি নিরস্ত্রীকরণে সম্মত হয়, তাহলেই পরবর্তী আলোচনা শুরু করা হবে। এর আগে হামাসের পক্ষ থেকে একটি যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, যেখানে গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের শর্ত রাখা হয়। তার বিনিময়ে হামাস বন্দি ইসরায়েলিদের মুক্তি দিতে প্রস্তুত ছিল। কিন্তু নিরাপত্তা ইস্যু দেখিয়ে সেনা প্রত্যাহারে অস্বীকৃতি জানায় ইসরায়েল। ফলে জিম্মিদের মুক্তিও হয়নি।

তবে এবার মধ্যস্থতাকারীরা আশাবাদী। মিশরের এক সরকারি কর্মকর্তা বলেন, হামাস এখন সময়ের গুরুত্ব বোঝে। আমরা বিশ্বাস করি, তারা দ্রুত সাড়া দেবে।

২০২৩ সালে ইসরায়েলের ওপর হামলা চালিয়ে আলোচনার কেন্দ্রে আসে হামাস। ওই হামলায় ১ হাজার ২০০ জন নিহত ও ২৪২ জন জিম্মি হয়। এরপর থেকেই গাজায় অভিযান শুরু করে ইসরায়েল। টানা ১৫ মাস পর গত ১৯ জানুয়ারি একতরফা যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় তারা। তবে সেনা প্রত্যাহার ও জিম্মিমুক্তির বিষয় নিয়ে মতানৈক্য থাকায় গত ১৮ মার্চ ফের অভিযান শুরু হয়। এ পর্যন্ত গাজায় নিহত হয়েছেন ৫১ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি, যাদের ৫৬ শতাংশই নারী ও শিশু। আহত হয়েছেন আরও ১ লাখ ১৬ হাজারের বেশি।

এদিকে ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষের (পিএ) জন্য আর্থিক সহায়তা বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। আগামী তিন বছরে এ সহায়তার পরিমাণ দাঁড়াবে প্রায় ১৬০ কোটি ইউরো (১৮০ কোটি মার্কিন ডলার)। মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক ইউরোপীয় কমিশনার দাবরাভকা সুইসা এ তথ্য জানিয়েছেন।

দাবরাভকা বলেন, পিএকে আমরা সংস্কারের জন্য উৎসাহিত করছি। তারা যদি নিজেদের আরও শক্তিশালী করে, তবেই তারা বিশ্বাসযোগ্যতা পাবে ইসরায়েলসহ আন্তর্জাতিক সংলাপে অংশগ্রহণের জন্যও।

ইইউ বর্তমানে ফিলিস্তিনিদের সবচেয়ে বড় দাতা। এই জোটের আশা, যুদ্ধের পর গাজার শাসনভার একসময় পিএর হাতে আসবে। তবে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, গাজার নিয়ন্ত্রণ পিএর হাতে ছেড়ে দেওয়া হবে না। এছাড়া ইসরায়েল এখনো ইইউর প্রস্তাবিত দ্বিরাষ্ট্র সমাধানের বিরোধিতা করে আসছে, যেখানে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়েছে।

All Categories