গাজায় পণ্য প্রবেশে ১৫ দিন ইসরায়েলি বাধা, ফুরিয়ে এসেছে খাদ্য ও ওষুধ

ইসরায়েল এবং হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রথম ধাপের মেয়াদ গত মাসের শুরুতে শেষ হয়েছে। দ্বিতীয় ধাপ শুরুর কথা থাকলেও ইসরায়েল এতে সায় দেয়নি। বরং তারা প্রথম ধাপের মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব দেয়, যা হামাস মেনে নিতে অস্বীকার করেছে। এর পরই ইসরায়েল গাজায় সব ধরনের মানবিক ত্রাণ এবং পণ্যের প্রবেশ বন্ধ করে দেয়, যাতে ১৫ দিন ধরে গাজার জনগণ খাদ্য, জরুরি ওষুধ এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় উপকরণ থেকে বঞ্চিত হয়ে চরম দুর্দশায় পড়েছে।

জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ২ মার্চের পর গাজায় কোনো খাদ্য পণ্য প্রবেশ করেনি, কারণ সব সীমান্ত পথ বন্ধ রয়েছে, এবং মানবিক ও বাণিজ্যিক পণ্য প্রবাহে কোনো সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। এই দীর্ঘ ১৫ দিনের অবরোধের ফলে গাজায় খাদ্যদ্রব্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। ডব্লিউএফপি আরও জানায়, প্রতিদিনের খাদ্য তালিকার কিছু উপকরণের দাম ২০০ শতাংশেরও বেশি বেড়ে গেছে, যা গাজাবাসীদের জন্য একটি বিশাল সংকট সৃষ্টি করেছে।

অপরদিকে চিকিৎসা সামগ্রী এবং জরুরি ওষুধও দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। জাতিসংঘের ত্রাণ ও মানবিক সহায়তা সংক্রান্ত সংস্থা (ওসিএইচএ) জানিয়েছে, গাজার অভিভাবকরা তাদের শিশুদের জন্য খাবার খাওয়াতে হিমশিম খাচ্ছেন। হাসপাতালগুলোতে আবারও জরুরি সরবরাহ ফুরিয়ে আসছে।তাদের মতে পণ্যের সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গাজার স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ও সামাজিক অবস্থা মারাত্মক সংকটে পড়েছে।

ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তির পর পরই গাজার জনগণের জন্য কিছু মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর আশা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু ইসরায়েল চুক্তির দ্বিতীয় ধাপ শুরু করার পরিবর্তে প্রথম ধাপের মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব দেয়। এর পরই গাজায় চলমান মানবিক সংকট আরও ঘনীভূত হয়, এবং ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ তাদের অবরোধ শিথিল করার কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।

বিশ্ব সম্প্রদায়ের বিভিন্ন সংস্থা বিশেষত জাতিসংঘ, অবিলম্বে এই অবরোধের অবসান ঘটানোর আহ্বান জানিয়েছে। তবে, এই অবস্থার মধ্যেও ইসরায়েল তাদের হামলা অব্যাহত রেখেছে। শনিবার গাজায় ইসরায়েলি হামলায় আট ত্রাণকর্মী এবং একজন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন, যার ফলে যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পর থেকে নিহতের সংখ্যা ১৫০-তে পৌঁছেছে।

গাজার পরিস্থিতি ক্রমেই ভয়াবহ হয়ে উঠছে। জাতিসংঘসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থা বারবার গাজায় অবরোধ বন্ধ করার জন্য ইসরায়েলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আসছে। তবে ইসরায়েলি অবরোধ ও হামলার কারণে গাজার জনগণ চরম মানবিক সংকটে পড়েছে, যা তাদের জীবন ও মর্যাদার জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল হামাসের সঙ্গে নতুন করে যুদ্ধবিরতি চুক্তি নিয়ে কাজ করছে। তবে, গাজার পরিস্থিতি কোনো কিছুতেই উন্নতি করছে না, এবং বিশ্ব মানবাধিকার সংগঠনগুলো অবিলম্বে গাজার মানুষের জন্য ত্রাণ ও সাহায্য পাঠানোর দাবিতে সোচ্চার হয়েছে।

বিশ্বের চোখ এখন গাজার দিকে, যেখানে মানবিক সংকট দ্রুত গভীর হয়ে উঠছে এবং গাজার জনগণের জন্য সাহায্য পৌঁছানো অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।

All Categories