গাজায় নিহত শিশুর সংখ্যা ১৮ হাজার ছাড়িয়েছে, স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ধ্বংসের মুখে

গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বাহিনীর দীর্ঘমেয়াদি সামরিক অভিযান ও অব্যাহত বিমান হামলায় মৃত্যুর মিছিল ক্রমেই দীর্ঘ হচ্ছে। গাজার স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালক ডা. মুনির আল-বারশ মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে জানান, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত ১৭ হাজার ৯৫৪ জন শিশু নিহত হয়েছে। একই সময়ে প্রাণ হারিয়েছে আরও ১২ হাজার ৩৬৫ জন নারী।

ডা. আল-বারশ সতর্ক করে বলেন, গাজার স্বাস্থ্য ব্যবস্থা সম্পূর্ণভাবে ধ্বংসপ্রাপ্ত। চিকিৎসা সরঞ্জাম, ওষুধ, বিদ্যুৎ এবং পানি সরবরাহ সবই সীমাহীন সংকটে। তার মতে, গাজার বাইরে চিকিৎসা প্রয়োজন এমন রোগীর সংখ্যা ২২ হাজার ছাড়িয়েছে, যাদের মধ্যে প্রায় ১৩ হাজারের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।

গাজার ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলমান সংঘাত এবং অবরোধের কারণে স্বাস্থ্য সেবায় মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটছে। মন্ত্রণালয় জানায়, যদি খুব শিগগির টিকা সরবরাহ চালু না করা যায়, তবে গাজার অন্তত ৬ লাখ ২ হাজার শিশু স্থায়ী পক্ষাঘাত বা দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক প্রতিবন্ধকতায় ভুগতে পারে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, “হাসপাতালগুলোতে নিবিড় পরিচর্যা ইউনিট (আইসিইউ) ধ্বংস হয়ে গেছে। বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থা কার্যত বন্ধ। এমন পরিস্থিতিতে হাজার হাজার শিশু ও বয়স্ক মানুষ চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত।

ডা. মুনির আল-বারশ বলেন, গাজার মোট ৩৬টি হাসপাতালের মধ্যে ২০টি সম্পূর্ণরূপে অচল হয়ে পড়েছে। বাকি হাসপাতালগুলোও সীমিত পরিষেবা দিচ্ছে। কিন্তু সেগুলোয় প্রয়োজনীয় জ্বালানি, পানি এবং ওষুধের ঘাটতি তীব্র আকার ধারণ করেছে।

ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, ইসরায়েলি বাহিনীর গত ছয় মাসের সামরিক অভিযানে গাজায় মোট ৫১ হাজার ৩০৫ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহতের সংখ্যা ১ লাখ ১৭ হাজার ৯৬ জনে পৌঁছেছে।

গাজার স্বাস্থ্য বিভাগ ও ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছে, “এই মানবিক বিপর্যয় রোধে অবিলম্বে হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

All Categories