গাজায় ইসরায়েলি হামলার বিরুদ্ধে রাজধানীসহ সারা দেশে বিক্ষোভের ঝড়

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী, নাগরিক সমাজের সদস্য ও রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাকর্মীরা ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় ব্যাপক বিক্ষোভ সমাবেশে অংশ নিয়েছেন। এর মূল উদ্দেশ্য ফিলিস্তিনে ইসরায়েলের বর্বর আক্রমণ এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানো। সমাবেশে শামিল হয়ে আন্দোলনকারীরা হাতে ‘শো ইসরায়েল দ্য রেড কার্ড’ স্লোগান সম্বলিত প্ল্যাকার্ড নিয়ে রাস্তায় নেমে আসেন। এই কর্মসূচি ফিলিস্তিনিদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে ইসরায়েলের অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানাতে একযোগে অনুষ্ঠিত হয়।


প্রধান প্রতিবাদ কর্মসূচি ঢাকার রাজপথে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে হাজারো মানুষ যোগ দেন। তারা ‘শো ইসরায়েল দ্য রেড কার্ড’ স্লোগান দিতে থাকেন এবং সমগ্র এলাকার মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। অংশগ্রহণকারীরা বলেন, “ইসরায়েলিরা গাজা উপত্যকায় নিরীহ মানুষদের হত্যা করছে, এটা মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ। শিক্ষার্থী ও মানবাধিকারকর্মীরা সমাবেশে শামিল হয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ফিলিস্তিনে শান্তি প্রতিষ্ঠায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য আহ্বান জানান।


ঢাকার পাশাপাশি, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, সিলেট ও খুলনা শহরেও বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। এসব বিক্ষোভে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংগঠন এবং মানবাধিকার সংস্থাগুলোর নেতৃবৃন্দ অংশ নেন। তাদের দাবি, ফিলিস্তিনের জনগণের প্রতি সহানুভূতি প্রদর্শন এবং ইসরায়েলের গণহত্যার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার সময় এসেছে।

এছাড়া, অনেক সমাবেশে প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল, ইসরায়েলের সন্ত্রাসবাদী কর্মকাণ্ড বন্ধ করো, ফিলিস্তিনিদের পাশে দাঁড়াও”, গাজা প্রজাতন্ত্রের স্বাধীনতা। এই সমাবেশগুলো ইন্টারন্যাশনাল কোড অব কন্ডাক্ট বা আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকারের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের জন্য বিশ্ব নেতাদের প্রতি জোরালো আহ্বান জানায়।


এই বিক্ষোভ এবং প্রতিবাদ সমাবেশগুলোর মূল উদ্দেশ্য আন্তর্জাতিক স্তরে ফিলিস্তিনের অধিকার রক্ষায় শক্তিশালী বার্তা পৌঁছানো। এর পাশাপাশি, ইসরায়েলি সরকারের দ্বারা মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে মানবাধিকার সংগঠনগুলো এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংগঠনের সহায়তায় প্রতিবাদ করার আহ্বান জানানো হয়। আন্দোলনকারীরা ‘বয়কট ইসরায়েল’, ‘ইসরায়েলির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা’ এবং ‘ফিলিস্তিনিদের স্বাধীনতা’ স্লোগান তুলে সংগঠিত হচ্ছেন।


বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ দীর্ঘদিন ধরে চলেছে। সম্প্রতি, গাজার পরিস্থিতি আরো খারাপ হলে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এ নিয়ে ব্যাপক উদ্বেগ প্রকাশ করেন। বিশেষত, ২০২৩ সালের পর থেকে ইসরায়েলের আক্রমণ আরও তীব্র হয়ে ওঠে এবং এতে বহু নিরীহ ফিলিস্তিনি নিহত হন। এর পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে বিক্ষোভের আয়োজন করা হচ্ছে, যার মাধ্যমে বিশ্ববাসীকে ফিলিস্তিনিদের পক্ষ অবলম্বন করার আহ্বান জানানো হচ্ছে।


এই বিক্ষোভের মাধ্যমে আন্দোলনকারীরা ভবিষ্যতে আরো বৃহৎ আকারে আন্দোলন গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছেন। তারা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে চাপ সৃষ্টি করার লক্ষ্যে বিভিন্ন সরকার এবং মানবাধিকার সংস্থার মাধ্যমে পদক্ষেপ নিতে চাচ্ছেন। বিশেষভাবে, ‘ইসরায়েলের রেড কার্ড’ আন্দোলন আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থা ফিফার কাছে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে, যা এ ধরণের আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করতে পারে।


ফিলিস্তিনে ইসরায়েলের মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং বেসামরিক মানুষের ওপর সহিংসতার বিষয়টি বর্তমানে আন্তর্জাতিক রাজনীতির একটি গরম বিষয় হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশের বিক্ষোভ এসব বিষয় নিয়ে বিশ্বব্যাপী সচেতনতা তৈরি করার জন্য একটি শক্তিশালী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। আন্দোলনকারীরা আশা করেন, এসব প্রতিবাদ থেকে একটি বৃহত্তর পরিবর্তনের সূচনা হবে এবং একদিন ফিলিস্তিনে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে।

All Categories