গাজায় ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে সম্মত হামাস
গাজায় ৬০ দিনের নতুন যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে সম্মতি জানিয়েছে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস। কাতার ও মিসরের মধ্যস্থতায় করা এই প্রস্তাবে যুদ্ধবিরতির পাশাপাশি জিম্মি ও বন্দি বিনিময়ের বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোর জ্যেষ্ঠ সদস্য বাছেম নাইম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, প্রস্তাবটি গ্রহণের ফলে গাজার মানুষ সহিংসতা থেকে কিছুটা মুক্তি পাবে।
দ্য গার্ডিয়ান জানায়, প্রস্তাব অনুযায়ী হামাস দুই দফায় প্রায় ২০ জন জীবিত জিম্মির অর্ধেককে মুক্তি দেবে। এর বিনিময়ে ইসরায়েল যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত ১৪০ জন, ১৫ বছরের বেশি দণ্ডপ্রাপ্ত ৬০ জনসহ সব নারী ও অপ্রাপ্তবয়স্ক ফিলিস্তিনি বন্দিকে মুক্তি দেবে। যুদ্ধবিরতির সময়ে স্থায়ী শান্তিচুক্তি নিয়ে আলোচনাও চলবে।
ইসরায়েলি কর্মকর্তারা হামাসের সম্মতির খবর নিশ্চিত করলেও প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু স্পষ্ট করে জানান, সব জিম্মিকে একসঙ্গে মুক্তি, হামাসের নিরস্ত্রীকরণ ও গাজার সামরিকীকরণ বন্ধ না হলে কোনো চুক্তি কার্যকর হবে না।
সম্প্রতি ইসরায়েলের নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা গাজা উপত্যকার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। প্রায় ১০ লাখ বাসিন্দাকে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছে দেশটির গণমাধ্যম। তবে নেতানিয়াহু দাবি করেন, দীর্ঘমেয়াদে গাজা দখল করে রাখার পরিকল্পনা তাদের নেই; কেবল একটি নিরাপত্তা বলয় গঠনই মূল লক্ষ্য।
অবরোধ ও খাদ্য সংকটের কারণে গাজায় মানবিক বিপর্যয় তীব্র আকার ধারণ করায় আন্তর্জাতিক চাপ ক্রমেই বাড়ছে। গত জুলাইয়ে আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর নতুন করে কাতার ও মিসর এ প্রস্তাব উত্থাপন করে।
সিএনএন জানায়, প্রস্তাবটি যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের তৈরি কর্মপরিকল্পনার ভিত্তিতে করা হয়েছে, যার প্রায় ৯৮ শতাংশ বজায় রাখা হয়েছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর থেকে ইসরায়েলি অভিযানের প্রেক্ষাপটে এর আগেও দুই দফা যুদ্ধবিরতি ও জিম্মি বিনিময়ের চুক্তি হয়েছে।